একটি শব্দও উচ্চারণ না করে দর্শককে হাসানোর এবং কাঁদানোর ক্ষমতা ছিল মহানশিল্পী চার্লি চ্যাপলিনের। যিনি একাধারে অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার, সম্পাদক, নির্মাতা ও প্রযোজক। সিনেমা শিল্পের প্রধান পুরুষ বলা হয় তাকে।
কৌতুককে অস্ত্র করে তিনি স্পর্শ করে গেছেন মানুষের সবচেয়ে আলোকিত স্থান থেকে সবচেয়ে অন্ধকার স্থানে। কালজয়ী মহান এই শিল্পীর জন্মদিন বুধবার(১৬ এপ্রিল)। এই দিনে দেখে নিতে পারেন চ্যাপলিন অভিনীত, পরিচালিত পৃথিবীর ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু চলচ্চিত্র-
১. সিটি লাইটস
চ্যাপলিনের অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা ‘সিটি লাইটস’। ১৯২৮ সালে এই ছবির চিত্রনাট্য রচনা করার সময় সবাক চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে শুরু করে, কিন্তু চ্যাপলিন নির্বাক চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। দুই বছর ধরে নির্মাণের পর এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৩১ সালে। এই ছবির জন্য চ্যাপলিন প্রথম চলচ্চিত্রের সুর করেন! বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়া এই ছবিটি নিয়ে সমালোচকরা মনে করেন এটি শুধু চ্যাপলিনের অভিনয় জীবনের সর্বোচ্চ অর্জনই নয়, বরং সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রের একটি।
২. মডার্ন টাইমস
সিটি লাইটসের মতোই এই ছবিটিও অভিনয়ের পাশাপাশি রচনা, পরিচালনার দায়িত্ব একাই সামলেছেন চ্যাপলিন। আধুনিক শিল্পায়িত পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে সাধারণের সংগ্রামকে পোট্রে করা হয়েছে সিনেমায়। এমনিতেই সমাজতন্ত্রের প্রতি চ্যাপলিনের দুর্বলতা ছিলো, এই সিনেমা মুক্তির পর চ্যাপলিনের উপর আমেরিকার গোয়েন্দা নজর পড়ে। তবে ‘সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ বিবেচনায় লাইব্রেরি অব কংগ্রেস ১৯৮৯ সালে ছবিটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় চলচ্চিত্র রেজিস্ট্রিতে সংরক্ষণের জন্য নির্বাচন করে।
৩. দ্য গ্রেট ডিক্টেটর
রাজনৈতিক স্যাটায়ারে পূর্ণ সিনেমা এটি। ১৯৪০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি সেই সময়ে সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে। এটি চ্যাপলিনের প্রথম সবাক ছবি। নিরবতা ভেঙে কথা বলেন চ্যাপলিন। ছবিটি জার্মান সহ বিভিন্ন দেশের স্বৈরাচারী সরকার নিষিদ্ধ করে। এই ছবিদে চ্যাপলিনের দেওয়া একটি ভাষণ গণতন্ত্রকামী প্রতিটি দেশের মানুষের কাছে আজও প্রাসঙ্গিক।
৪. দ্য কিড
১৯২১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটিও অন্য ছবিগুলোর মতোই চ্যাপলিনের প্রযোজনা, পরিচালনায় নির্মিত। মূল ভূমিকায় চ্যাপলিনের সঙ্গে দুর্দান্ত অভিনয় করেন জ্যাকি কুগ্যান। এই ছবিটিই চ্যাপলিনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ‘দ্য কিড’ শুরুর দৃশ্যে বলা হয় “একটি হাসির চলচ্চিত্র এবং সম্ভবত, কান্নারও”। চ্যাপলিনের অনেক জীবনীকার মনে করেন চলচ্চিত্রে দ্য ট্রাম্প ও কিডের মধ্যে যে সম্পর্ক দেখানো হয়েছে তা মূলত চ্যাপলিনের প্রথম জন্ম নেওয়া শিশুপুত্র, যে এই চলচ্চিত্র নির্মাণের দশদিন আগে মারা যায়, তার প্রতি চ্যাপলিনের মমত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠেছে। চলচ্চিত্রে প্রদর্শিত দারিদ্র ও সমাজকর্মীদের বিরূপ মনোভাব লন্ডনে চ্যাপলিনের নিজের বাল্যকালের প্রতিচ্ছবি।
৫. দ্য সার্কাস
চ্যাপলিনের পরিচালনা, প্রযোজনায় নির্মিত আলোচিত পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘দ্য সার্কাস’। ছবিটি শুধু বক্স অফিসে নয়, সেই সময়ে অস্কারেও চারটি বিভাগে মনোনীত হয়েছিলো।








