নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি বলেছেন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ।
আজ বুধবার রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
নারী মৈত্রী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যৌথ উদ্দ্যোগে এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহায়তায় আয়োজিত কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, সচিব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা, ওয়ার্ড-ভিত্তিক নিবন্ধকগণ এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় সরকার কর্মকর্তাদের সাথে বর্তমান জাতীয় নীতি ও আইনি কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা এবং মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং সুপারিশ নিয়ে সরাসরি মতবিনিময়।
শাহীন আক্তার ডলি বলেন, এই উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ে সরকারের কার্যকারিতা ও জনগণের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। আমি মনে করি এই ক্ষেত্রে সিভিল সোসাইটি প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে পারবে।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৭০% জন্ম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ঘটে। কিন্তু জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাথমিক তথ্যদাতা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় অনেক জন্ম নিবন্ধিত হয় না। এই অপূর্ণতা শিশুর আইনগত পরিচয় দান বিলম্বিত করে, ফলে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানাই যেন আইনটি সংশোধন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাথমিক তথ্যদাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যাতে প্রতিটি শিশুকে জন্ম থেকেই গণনা ও সুরক্ষার আওতায় আনা যায়।
বক্তারা আরও বলেন, জন্ম নিবন্ধন প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে অনেক সময় মানুষ প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং তথ্যের অভাবে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ নির্দেশনা পেলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সমস্যাগুলোর সমাধান স্বাস্থ্য বিভাগ দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতির সব সুযোগ এখনই বন্ধ করতে হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, যার জন্ম নিবন্ধন, তিনি নিজে বা তার অভিভাবক এসে নিবন্ধন কার্য সম্পন্ন করবেন। এছাড়া, বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সব জায়গায় শিশুর বয়সের মানদণ্ড একই রকম করতে হবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীগণ মতবিনিময়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য করণীয় বিভিন্ন পদক্ষেপের পরামর্শ দেন। তারা উল্লেখ করেন, সরকারি অফিসসমূহে পর্যাপ্ত রিসোর্সের অভাব রয়েছে, যা কাজের গতি ব্যাহত করে। মাঠপর্যায়ে তারা প্রতিনিয়ত যে সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, সে সম্পর্কে সরকার সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করলে বাস্তবভিত্তিক নীতিনির্ধারণ সম্ভব হবে।
তারা আক্ষেপ করে বলেন, নিজেদের সমস্যাগুলো জানানোর বা মত প্রকাশের সুযোগও তারা পান না।
এই কর্মশালার মাধ্যমে সিভিল সোসাইটি প্রতিষ্ঠান ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নাগরিক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে বলে আশা করেন সংশ্লিষ্টরা।








