এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস স্বীকার করেছেন, অতীতে তার একাধিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন এসব সম্পর্কের তথ্য জেনে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার কথা ভাবছিলেন।
বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্যা টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এপস্টাইনকে ঘিরে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তের অংশ হিসেবে ১০ জুন দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণে অংশ নেন বিল গেটস। সেখানে তিনি জানান, রুশ ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানী কারিমা নিগমাতুলিনা-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এছাড়া আরেক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গেও তার সম্পর্কের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

গেটস কংগ্রেসকে জানান, এপস্টাইন তার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং এসব তথ্য ব্যবহার করে তাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন বলে তার ধারণা হয়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এপস্টাইন কখনও তাকে সফলভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে পারেননি।
সাক্ষ্যে গেটস আরও বলেন, ২০১১ সালে এপস্টাইনের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই চিকিৎসা উদ্যোক্তা অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরড-এর সঙ্গে তার একটি সম্পর্ক ছিল। পরে কংগ্রেস সদস্যরা এপস্টাইনের একটি ইমেইল উপস্থাপন করলে তিনি স্বীকার করেন যে, ওই সম্পর্কের বিষয়েও এপস্টাইন জানতেন।
এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিল গেটস আবারও বলেন, তার সঙ্গে সময় কাটানো ছিল “একটি ভুল সিদ্ধান্ত”। তিনি দাবি করেন, এপস্টাইনের কোনো যৌন নির্যাতনের ঘটনা তিনি কখনও প্রত্যক্ষ করেননি এবং নিজেও কোনো ধরনের যৌন অসদাচরণে জড়িত ছিলেন না।

তবে গেটস স্বীকার করেন, এপস্টাইনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি অজান্তেই তার অধীনে কাজ করা নারী ও কিশোরীদের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। এছাড়া এক পর্যায়ে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে যৌন সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন। যদিও পরে সেই আশঙ্কা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয় এবং তার কখনও কোনো যৌনরোগ ধরা পড়েনি বলে তিনি দাবি করেন।

গেটসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এপস্টাইনের সঙ্গে তার প্রায় ১২ থেকে ১৪ বার সাক্ষাৎ এবং দুটি স্কাইপ কল হয়েছিল। এসব বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও জনহিতকর কার্যক্রমে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা। তবে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় ২০১৪ সালেই এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান জেফরি এপস্টাইন। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতন ও পাচারের গুরুতর অভিযোগ ছিল। পরবর্তীতে প্রকাশিত বিভিন্ন নথি ও ইমেইলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় আসে তার সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক।







