এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রেকর্ড দামে পৌঁছানোর পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই দরপতনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ টাকার বেশি। মাত্র একদিনেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজ ৩১ জানুয়ারি শনিবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম নেমে আসে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। এর আগের দিন প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। বৃহস্পতিবার সকালে দাম উঠেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে, যা ছিল বিশ্ববাজারে স্বর্ণের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বিশ্ববাজারে বড় এই দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও দ্রুত পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ভরিপ্রতি সোনার দাম এক লাফে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায়। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই বাজুস আবার সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। শুক্রবার সকালে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা দাম কমানো হয়। ফলে ভালো মানের সোনার দাম নেমে আসে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায়, যা শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়।
বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। এর ফলে স্বল্প সময়েই দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে রেকর্ড দামের পর বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নিতে শুরু করায় বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে এমন ইঙ্গিত সোনার দামে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এসব কারণের সঙ্গে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন যুক্ত হয়ে সাম্প্রতিক দরপতন ঘটেছে।








