সিনেমা প্রযোজনায় দুই দশক পূর্ণ করেছে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণে অনন্য প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। গত কুড়ি বছরে একের পর এক আলোচিত এবং প্রশংসিত ছবি উপহার দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ইমপ্রেস বেশকিছু মুক্তিযুদ্ধের ছবি নির্মাণ করেছে। দেশ-বিদেশের মানুষের কাছেও সমাদৃত হয়েছে সেই ছবিগুলো। বিজয়ের ৫২ বছরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি তেমনই আলোচিত কয়টি সিনেমা সম্পর্কে জেনে নিন এখানে:
দামাল
সাম্প্রতিক আলোচিত সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সিনেমা ‘দামাল’, যা মুক্তি পায় গেল বছরের একেবারে শেষের দিকে। রায়হান রাফী পরিচালিত তারকাবহুল এই সিনেমাটির গল্প স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিমকে ঘিরে। ফরিদুর রেজা সাগরের গল্প অবলম্বনে তৈরী হয়েছে চিত্রনাট্য। ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, শরীফুল রাজ, বিদ্যা সিনহা মিম। তারকাবহুল এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন শাহনাজ সুমি, সুমিত, রাশেদ অপু, ইন্তেখাব দিনারসহ অনেকে। ২০২২ সালের অক্টোবরে সিনেমাটি মুক্তির পর দেশ-বিদেশের দর্শকের প্রশংসা অর্জন করে।
আমার বন্ধু রাশেদ
২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ ছবিটি মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত শিশুতোষ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম। ১৯৭১ সালে মফস্বল শহরের কয়েকজন কিশোর কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তারই কিছু চিত্র ফুটে উঠেছে গল্পে। ছবিতে অভিনয় করেছে চৌধুরী জাওয়াতা আফনান। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইনামুল হক, হুমায়রা হিমু, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আরমান পারভেজ মুরাদ। এছাড়াও শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছে রায়ান ইবতেশাম চৌধুরী, কাজী রায়হান রাব্বি, লিখন রাহি, ফাইয়াজ বিন জিয়া, রাফায়েত জিন্নাত কাওসার আবেদীন।
গেরিলা
গেরিলা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে লেখক সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লোবান’ অবলম্বনে। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত এই সিনেমা পরিচালনা করেছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। ছবিতে অভিনয় করেছে এটিএম শামসুজ্জামান, জয়া আহসান, ফেরদৌস, শতাব্দী ওয়াদুদ, শম্পা রেজা সহ আরও অনেকে। ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত গেরিলা ছবিটি বাণিজ্যিক ভাবেও দারুণ সফল হয়েছিল। ছবিটি ২০১১ সালে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অংশগ্রহণ করে এবং ১৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১১-এ নেটপ্যাক পুরস্কার জিতে নেয়।
জয়যাত্রা
২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জয়যাত্রা ছবিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন একদল মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, মৃত্যু ও বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প নিয়ে তৈরি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন তৌকির আহমেদ। আমজাদ হোসেন এর কাহিনী নিয়ে নির্মিত এই ছবিতে অভিনয় করেছে মাহফুজ আহমেদ, বিপাশা হায়াত, রোমানা, তারিক আনাম খান,আজিজুল হাকিম, চাঁদনী, শাহেদ সহ আরও অনেকে। ছবিটি ২৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার, শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার, শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক, শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেত্রী ও শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক বিভাগে পুরস্কার লাভ করে।
শ্যামল ছায়া
২০০৪ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ‘শ্যামল ছায়া’ ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে তৈরি এই ছবিতে সরাসরি যুদ্ধের দৃশ্য না দেখিয়েও যুদ্ধের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুনিপুণ ভাবে। ছবিটি ২০০৬ সালে ‘সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র’ বিভাগে একাডেমি পুরস্কার এর জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। ছবিতে অভিনয় করেছেন হুমায়ুন ফরীদি, শাওন, শিমুল, রিয়াজ, স্বাধীন খসরু, সৈয়দ আখতার আলী, তানিয়া আহমেদ, রাত্রি, আহমেদ রুবেল, এজাজুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, শামীমা নাজনীন, জেসমিন পারভেজসহ আরও অনেকে।








