বর্তমান শিক্ষা সংস্কার কমিশন ছেঁটে ফেলে আস্তিক ও আগস্ট বিপ্লবের চেতনাধারীদের বসাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যেই কিছু অসুবিধা দেখতে পাচ্ছি। শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে কিন্তু এই দেশের ৯০ ভাগ মানুষ আস্তিক। তাহলে আস্তিকদের প্রতিনিধিত্ব নেই কেন সেখানে? যারা এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের চেতনাই বুঝতে পারে না তাদেরকে কেন বসতে দেয়া হয়েছে? আমরা চাই তাদেরকে এখান থেকে সাফ করে দেয়া হোক। তাদের জায়গায় তারা ফিরে যাক। এই জাতির ঘাড়ে তাদেরকে বসতে দেয়া যাবে না।
শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাৎ এবং এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর পাবনায় এটি ছিল জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশ্যে সুধী সমাবেশ।
সমাবেশে জামায়াতের আমির আরও বলেন, ১৫ বছরে আমাদের ওপর যে জুলুম করা হয়েছে আর কারও ওপর তা করা হয়নি। আমাদের প্রতীক কেড়ে নেয়া হয়েছে, আমাদের অফিসগুলো সিলগালা করা হয়েছে। আমাদের ভাই-বোনদের হত্যা করা হয়েছে। আমাদের শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই যে জুলুম করা হয়েছে আমরা বলেছি তার প্রতিশোধ নেব না। প্রতিশোধ নিতে গেলে আমাদের ওপর যেভাবে জুলুম করা হয়েছে সেইভাবে জুলুম করতে হবে, আইন আমাদের হাতে তুলে নিতে হবে কিন্তু আমরা আইন হাতে তুলে নেব না, এই জন্য ক্ষমা করেছি কিন্তু গণহত্যার জন্য নয়, আয়নাঘরের গুমের জন্য বা গণধর্ষণের জন্য ক্ষমা নয়। হাজার হাজার মানুষকে গুলি করে যে হত্যা করা হয়েছে তার বিচার অবশ্যই হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেক সাংবাদিক ভাইয়েরা জিজ্ঞাসা করেন যে, আপনার দলের শহীদের সংখ্যা কত? কিন্তু আমরা তাদের বলেছি আমরা সংখ্যা বলবো না, কারণ শহীদরা কারো দলের হতে পারে না। তারা জাতির সম্পদ, তারা জাতির বীর। এই জন্য আমরা আমাদের দলের শহীদের সংখ্যা বলবো না, কারণ এই শহীদরা সমস্ত জাতির।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইকবাল হুসাইনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আব্দুর রহিম, নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, শহীদ জাহিদুল ইসলামের বাবা দুলাল উদ্দিন মাস্টার, শহীদ মাহবুব হাসান নিলয়ের বাবা আবুল কালাম, সমন্বয়ক রাসেল মাহমুদ, বরকতুল্লাহ ফাহাদ প্রমুখ। এর আগে একই ভেন্যুতে জামায়াতে ইসলামীর পাবনা জেলার ষান্মাসিক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রুকন সম্মেলনে আমির বলেন, জামায়াতের সদস্যরা আগে পাল্টাবে তারপর তারা দেশ পাল্টাবে। আল্লাহর সৃষ্টি যা আছে সবগুলোকে সম্মান করতে হবে। মানুষকে মানুষ হিসাবে মনে করবো এবং আল্লাহর পথে ডাকবো।








