দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগে মারা গেছেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার-কোচ ফ্রেঞ্জ বেকেনবাওয়ার। কিংবদন্তির মৃত্যুতে শোকাহত ফুটবলবিশ্ব। জার্মানিতে ডের কাইজার বা ফুটবল সম্রাট আখ্যা পাওয়া বেকেনকে স্মরণ করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসিও। কিংবদন্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিশ্বজয়ী মহাতারকা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শোক প্রকাশ করেছেন মেসি। বেকেনবাওয়ারের খেলোয়াড়ি জীবনের ছবি দিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় লিখেছেন ‘কিউইপিডি’ (que en paz descanse)। যার অর্থ, ‘শান্তিতে থাকুন।’
সোমবার পৃথিবীকে চিরবিদায় জানিয়ে চলে গেছেন বেকেনবাওয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
১৯৭৪ সালে দুই ভাগে বিভক্ত ছিল জার্মানি। সেবছর তার নেতৃত্বে পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপ জেতে। ১৯৯০ সালে কোচ হিসেবেও বিশ্বকাপ জেতেন বেকেনবাওয়ার। অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপজয়ী প্রথম তিনি।
বেকেনবাওয়ার মধ্যভাগের খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে পরে দীর্ঘসময় কাটিয়েছেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের ভূমিকায়। নিখুঁত পাস ও লম্বা দৌড়ে আক্রমণভাগে দারুণ অবদান রাখতে পারতেন সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তি।
১৯৪৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জন্ম বেকেনবাওয়ারের। বাবা ছিলেন ডাক বিভাগের কর্মী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী টানাপোড়েনের সময় কষ্টে কেটেছিল তার শৈশব।
১৯৫৪ সালে স্থানীয় একটি ক্লাবে নাম লিখিয়ে ফুটবলে যাত্রা শুরু হয় বেকেনের। পরে যোগ দেন বায়ার্ন মিউনিখের যুব দলে। ১৯৬৪ সালে মূল দলে অভিষেক হয়। একবছর পর অভিষেক হয় জাতীয় দলে।
পশ্চিম জার্মানির হয়ে ১৯৬৬ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপে অংশ নেন বেকেনবাওয়ার। প্রথমবার রানার্সআপ ও দ্বিতীয়বার তৃতীয় স্থান লাভ করে দল। ১৯৭৪ সালে তার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জেতে পশ্চিম জার্মানি।
বায়ার্ন মিউনিখের হয়েও অনন্য অবদান রেখেছেন বেকেনবাওয়ার। বুন্দেসলিগা জায়ান্টদের করেছেন ইউরোপ সেরা। বায়ার্নের হয়ে সবমিলিয়ে ৫৮২ ম্যাচে করেছে ৭৪ গোল। গোল করিয়েছেন ৭৫টি। জাতীয় দলের হয়ে ১০৩ ম্যাচে ১৪ করেছেন, গোলে সহায়তা করেছেন ১০টিতে।
১৯৭২ ও ১৯৭৬ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন বেকেনবাওয়ার। জার্মানির বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছেন চারবার- ১৯৬৬, ১৯৬৮, ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে।








