বিদায়ী ২০২২ সালের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেশী বিদেশী পর্যটকের ভিড় জমে ছিল। থার্টি ফার্স্ট নাইটে কোন আয়োজন না থাকলেও সৈকতের শেষ সূর্যাস্ত উপভোগ করেছেন কক্সবাজারে আগত পর্যটকরা। পর্যটকদের নিরাপত্তাই নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। পর্যটক হয়রানি বন্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের চারটি টিম টহল দিচ্ছে পর্যটন এলাকায়।
শেষ সূর্যাস্ত দেখতে বিকালের পর থেকে সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হতে থাকে আগত পর্যটকরা। ঢাকার মিরহাজিরবাগ এলাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি টিপু ও শিল্পী বলেন, ছয় মাস আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে। বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে আমরা আজ কক্সবাজার এসেছি। সৈকতে অন্যান্য পর্যটকদের সাথে দাঁড়িয়ে একটি বছরকে বিদায় জানাতে পেরে ভালই লাগছে।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে আসা পর্যটক রাসেল চৌধুরী বলেন, আমাদের জীবন থেকে আরও একটি বছর হারিয়ে গেল। বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখলাম কক্সবাজার সৈকতে দাঁড়িয়ে। আমার সাথে আমার আরো চার বন্ধু এসেছে। সব মিলিয়ে ভালই কেটেছে আমাদের।
খুলনা থেকে আসা পর্যটক, আজিজ, ইউনুস, আলম ও মোঃ ফরাজ বলেন, বন্ধুরা মিলে বছরের শেষ সূর্য ডোবার দৃশ্যটি দেখলাম বিশাল সাগরের সামনে দাঁড়িয়ে। অসাধারণ ভালোলাগার একটি দৃশ। সাপ্তাহিক ছুটি টাকায় কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে।
হোটেল দ্যা কক্স ট্যুরের জিএম আবু তালেব শাহ বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে হোটেলে কোন আয়োজন নেই। তবে ৮০ শতাংশ রুম বুকিং রয়েছে।
হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাজা শাহ আলম চৌধুরী বলেন, আগত পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য আমরা সবসময় চেষ্টা করি। কোন হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।
হোটেল সিগালের সি ও শেখ ইমরুল ইসলাম সিদ্দিকী রুমি বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে হোটেলের ভেতর কোন আয়োজন ছিল না। আমাদের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং রয়েছে।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, বছরের শেষ সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখতে যেসব পর্যটক কক্সবাজার আগমন ঘটেছে তাদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সৈকতে রাতে যেসব পর্যটক থাকবে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। রাতে সৈকতে কোন ধরনের অনুষ্ঠান হবে না। তবে পর্যটকরা অবশ্যই সৈকতে থাকবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ শাহীন ইমরান বলেন, বছরের শেষ ও নতুন দিন দেখার জন্য যেসব পর্যটক কক্সবাজার আগমন ঘটেছে তাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যটন সেল থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পর্যটকরা যাতে কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চারটি টিম সমুদ্র সৈকতসহ আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে।







