রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতির দায়িত্ব নেন ফারুক আহমেদ। এরপর বোর্ড পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি গঠনতন্ত্র সংশোধনীর কাজ হাতে নেয়। কিছু প্রস্তাবও দাঁড় করিয়েছিল ওই কমিটি । আপাতত সেই গঠনতন্ত্র সংশোধনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিসিবি।
শনিবার বিসিবির ১৭তম বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভা শেষে সংবাদ মাধ্যমে বিসিবির দুই বোর্ড পরিচালক মাহবুবুল আনাম ও ইফতেখার রহমান মিঠু গঠনতন্ত্র সংশোধনের কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টি জানান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালক সংখ্যা ২৫। ঢাকার ক্লাবগুলো থেকে ১২ জন, জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ে ১০, সাবেক ক্রিকেটার কোটা থেকে এক ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে ২ জন মিলে গঠিত হয় পরিচালনা পর্ষদ। গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রাথমিক খসড়ায় ঢাকার ক্লাবগুলোর মধ্যে পরিচালক সংখ্যা ১২ থেকে চার এবং কাউন্সিলর সংখ্যা ৭৬ থেকে কমিয়ে মাত্র ৩০ (প্রিমিয়ার ১২, প্রথম বিভাগ ৮, দ্বিতীয় বিভাগ ৬ ও তৃতীয় বিভাগ ৪) করা হয়।
ক্লাবগুলোর প্রতিনিধি কমিয়ে আনার প্রস্তাব বিরোধিতার মুখে পড়ে। এর প্রতিবাদে ঢাকার ক্লাবগুলো লিগ বর্জনের ঘোষণা দেয়। ফলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এখনও শুরু হয়নি প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। এমনকি নাজমুল আবেদীনের পদত্যাগও দাবি করে ক্লাবগুলো। এরপর তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি।
মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রথমত একটা কথা বলি যে, উনারা কোনো পরিবর্তন বোর্ড সভাপতির কাছে বা বোর্ডের কারও কাছে জমা দেননি। এমনকি এনএসসির কাছেও কিছু জমা দেওয়া হয়নি। এটাও আলাপে এসেছে, যে পরিবর্তনটি বাইরে অনেকে বলেছেন, তার অনেক কিছুই সঠিক নয়। বিসিবি পরিচালকরা মনে করেছেন, প্রক্রিয়াটা আরেকটু স্বচ্ছ হওয়া দরকার। কারণ গঠনতন্ত্র এমন একটা জিনিস, এখানে কোনো গোপনীয়তা নেই। এটা পাবলিক একটা তথ্য, পাবলিকই থাকবে। সেজন্যই আমরা প্রথমত মনে করেছি তাদের কার্যক্রম স্থগিত থাকা দরকার। এখানে যে আলাপ-আলোচনা আছে, সেগুলো থামানো দরকার।’
‘আপনারা জানেন, গঠনতন্ত্রের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আজকে বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই কমিটি পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা হবে। তাদের কাজের পরিধি ও টার্মস অব রেফারেন্স তৈরি করার পরই বাকি কার্যক্রম হবে। গঠনতন্ত্রে কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন এবং স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে সেগুলো কীভাবে তারা করবেন বিষয়গুলো সেখানে থাকবে।’
এছাড়া সভায় মেয়েদের বিপিএল আয়োজন নিয়ে তাড়াহুড়া না করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বোর্ড। আগে কথা ছিল ছেলেদের বিপিএল শেষ হওয়ার ৮-১০ দিনের মধ্যেই তিন দল নিয়ে শুরু হবে নতুন বিপিএল। তবে আজ সিদ্ধান্ত হয়েছে সবকিছু গুছিয়ে শুরু করা না গেলে টুর্নামেন্টটি পিছিয়ে দেয়া হবে।








