বিপিএল ১১তম আসরের পর্দা নেমেছে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। চিটাগং কিংসকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মত শিরোপা ঘরে তুলেছে ফরচুন বরিশাল। এবারের আসরে গ্যালারিতে দর্শকদের ভিড় ছিল দেখার মত। দর্শকদের জন্য অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনে টিকিটের ব্যবস্থা রেখেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার জানা গেল, ১১তম আসরে টিকিট থেকে আয়ের অঙ্ক। বিপিএলের একাদশ আসরে টিকিট থেকে রেকর্ড আয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ।
সোমবার এক ভিডিও বার্তায় এই তথ্য জানান তিনি। জানিয়েছেন, এবারের আসরে টিকিট থেকে ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকার মতো রেভিনিউ হয়েছে। পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তিন বছরের জন্য অনলাইন ই-টিকেটিং স্বত্ব বিক্রি করা হয়েছে। প্রতি বছর সেখান থেকে ১ কোটি টাকা পাবে বিসিবি। সব মিলিয়ে বিপিএলের টিকিট বিক্রি রেভিনিউ ১৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যা টিকিট থেকে গত দশ আসরের সম্মিলিত আয়ের কাছাকাছি।
বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘এবার অবিশ্বাস্যরকম সফলভাবে টিকিট বিক্রি করেছি। এটার বড় কারণ ছিল, আমরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গিয়েছি। এটি অত্যন্ত নিরাপদ ব্যবস্থা। বিশ্বকাপে যেভাবে টিকিট বিক্রি হয়, ঠিক সেভাবেই। যদিও পুরোপুরি অনলাইন যেতে পারিনি। নতুন একটা সিস্টেম দেখার জন্য (বিপিএলের) প্রথম পর্বে আমরা ৩৫ শতাংশ ও প্লে-অফে ৪০ শতাংশ টিকিট দিয়েছিলাম অনলাইনে। সব মিলিয়ে পুরো বিপিএলে আমরা প্রায় ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি করেছি।’
‘ছোট্ট একটা তুলনা যদি দেই, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড গত ১০ আসরে টিকেট বিক্রি করেছে ১৫ কোটি টাকার মতো। সেটা বিবেচনা করলে আমরা এক বছরেই সেটার কাছাকাছি চলে গিয়েছি।’
আমরা টিকেটস্বত্ব বিক্রি বাবদ এক কোটি টাকা করে তিন বছরের চুক্তি করেছি। তার মানে, টিকিট বিক্রির সঙ্গে যদি এটা যোগ করি এবছর, তাহলে সোয়া ১৩ কোটি টাকার মতো হবে। এটা একটা বিরাট মাইলফলক। উত্তরোত্তর আমরা আরও এগিয়ে যাব।’
গত কয়েক আসর ধরে বিপিএলের লভ্যাংশের দাবি করে আসছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। আশ্বাস দেয়া হলেও কখনও এর ভাগ পায়নি দলগুলো। এবার টিকিট বিক্রিতে বড় আয়ের পর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে লভ্যাংশ দেয়ার কথা জানালেন ফারুক আহমেদ। বলেছেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সবসময়ই একটা বড় দাবি ছিল রেভিনিউ শেয়ারিং। তখন তাদের বলেছিলাম, আসলে লাভটা কত কী হয়, এটাই আমি জানি না। তাই আমার পক্ষে তখন কিছু বলা সম্ভব ছিল না।’
‘তবে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য সুখবর.. যদিও রেভিনিউ শেয়ারিং বলতে সব ক্ষেত্রেই ভাগাভাগি বোঝায়, কিন্তু অন্যগুলো ওরকম করে করতে পারিনি। তাই টিকেট বিক্রির যে আয় হয়েছে, এখান থেকে একটা ভালো অংশ সাত ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দেয়ার চেষ্টা করব।’
বিসিবি সভাপতি সোমবার ক্রিকেটের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সাবেক অধিনায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। সেখানে বিপিএলের জন্য নতুন উইন্ডো খোঁজার পরামর্শ এসেছে। যাতে বিদেশি লিগের সঙ্গে বিপিএলের সূচি সাংঘর্ষিক না হয় এবং মানসম্মত বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়া যায়।
ফারুক আহমেদ বলেছেন, ‘আগামী বিপিএল নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছি। একটা উইন্ডো বের করেছি আমরা। এখন তো সব দেশে অনেকগুলো টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়। যেগুলো আমাদের বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। সেসব টুর্নামেন্ট থেকে যেন আমরা একটু অন্যরকম করে করতে পারি, যাতে করে একটু মানসম্পন্ন বিদেশি ক্রিকেটার পাই। এটা নিয়ে আজকে সাবেক অধিনায়কদের নিয়ে একটা বৈঠক করেছি। সব অধিনায়ক তাদের মতামত দিয়েছেন। সেখানে চমৎকার কিছু পরামর্শ এসেছে। সেগুলো আমরা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে যেন কাজে লাগাতে পারি, সেই চেষ্টা করব।’








