বিপিএল ফাইনাল, টিকিটের চাহিদাটাও বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। শুক্রবার ফাইনালের দিন ভোর থেকেই মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্স সংলগ্ন টিকিট বুথে লাইনে দাঁড়ান অনেকে। তবে টিকিট সোল্ড আউটের বিষয়টি বিসিবি জানিয়ে দেয়। অথচ, কালোবাজারে পাওয়া যাচ্ছে টিকিট। বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় গড়িয়েছে আসরের শিরোপা মহারণ। ফাইনালে লড়ছে ফরচুন বরিশাল ও চিটাগং কিংস। ফাইনাল দেখতে বৃহস্পতিবার রাতেই বরিশাল থেকে ঢাকায় আসেন মির্জা গালিব হোসেন নামের এক ক্রিকেটপ্রেমী। ভোর সাতটায় আসেন শের-ই-বাংলা প্রাঙ্গণে। দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট না পেয়ে ফিরতে হয় তাকে। জানালেন, পরে কালোবাজার থেকে ৪০০ টাকার টিকিট কেনেন দুই হাজার টাকায়।
চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে আলাপে গালিব জানালেন, ‘রাতে বাসে ঢাকায় আসছি খেলা দেখতে। ভোরে যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুরে আসি। সাতটার মতো বেজে যায় এখানে আসতে। বলা হয়েছিল নয়টার দিকে টিকিট দেবে। সাড়ে দশটায় বেজে গেলেও আর টিকিট পাইনি। পরে বিসিবিও জানায় টিকিট নাই। কী করার, বরিশাল থেকে আসছি। খেলা না দেখে ফিরে যাবো না, পরে ব্ল্যাকে টিকিট কিনি। ৪০০ টাকার টিকিট আমার কাছে দুই হাজার টাকা নিছে।’
বৃহস্পতিবার থেকেই মিরপুরে স্টেডিয়ামের আশে পাশে কালোবাজারিদের দেখা গেছে। স্টেডিয়াম সংলগ্ন আবাসিক এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর হাতে পাওয়া যাচ্ছে টিকিট। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ৪০০ বা ৫০০ টাকার টিকিটের দাম চাচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা। ক্লাব হাউজের এক হাজার টাকার টিকিটের দাম হাঁকানো হচ্ছে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা।
শনিরআখড়া থেকে টিকিট কিনতে গতকালও এসেছিলেন খোরশেদ আলম। আজকে সকাল ৭টায় এসে টিকিট না পেয়ে হন্নে হয়ে খুঁজছেন। কালোবাজারির সাথেও সুবিধা করে উঠতে পারছেন না। আলাপকালে বললেন, ‘গতকালও এসেছিলাম, টিকিট পাইনি। দুপুরে বলে কেবল ৩ হাজার টাকার টিকিট। পরে ফিরে যাই। আজকে ভোরে আসি এই আশায় যদি চারশো টাকার টিকিট পাই। কিন্তু কাউন্টারে তো টিকিট দিলো না। বাইরে অনেকে টিকিট বিক্রি করছে। তবে দাম বেশি। আড়াই হাজার-তিন হাজার টাকা চায়। এত টাকা থাকলে তো কালকেই কাউন্টার থেকে কিনতাম।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে টিকিট বিক্রি করছে অনেকে। তাদের একজনের সাথে কথা হয় ক্রেতা সেজে। এক হাজার টিকিট আছে তার কাছে, তবে বিক্রি করবেন দুই হাজার টাকা করে।
অথচ এবার টিকিট কালোবাজারি মুক্ত রাখার কথা জানিয়েছিল বিসিবি। আদৌ তা হচ্ছে কীনা উঠেছে প্রশ্ন। কাউন্টারগুলোতে দেখা গেছে একের অধিক টিকিট দেয়া হচ্ছে না কাউকে। তবে ১৫-২০টি টিকিটও একত্রে পাওয়া যাচ্ছে কালোবাজারিদের হাতে। ফাইনালের আগেরদিন বিপিএল টিকিট কমিটির অন্যতম দায়িত্বশীল তরিকুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে এসক্রান্ত বিষয়ে আলাপ হয়। জানান বিসিবি সংশ্লিষ্ট লোকজনের জন্য কেবল বাড়তি টিকিট নেয়ার সুযোগ আছে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যক। সেক্ষেত্রে অবশ্য বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের সুপারিশসহ স্বাক্ষর লাগবে। সুতারং প্রশ্ন থেকেই যায়, কালোবাজারিদের হাতে এত এত টিকিট এলো কোথা থেকে?







