যুক্তরাজ্য সরকারের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করায় বিবিসি থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন ‘ম্যাচ অব দ্য ডে’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক গ্যারি লিনেকার। সাবেক ফুটবলার ও জনপ্রিয় উপস্থাপককে নিষিদ্ধ করায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আরও কয়েকজন উপস্থাপক। এতে ক্রীড়া বিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি।
গত মঙ্গলবার টুইটারে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেন ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক লিনেকার। বিবিসির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে শুক্রবার তাকে ‘ম্যাচ অব দ্য ডে’ অনুষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ঘটনায় লিনেকারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অ্যালান শিয়েরার ও লান রাইটসহ বেশ কয়েকজন সাবেক ফুটবলার, তারা বিবিসির উপস্থাপনা থেকে সরে দাঁড়ান। শনিবার ‘ম্যাচ অব দ্য ডে’ অনুষ্ঠানটি কোন উপস্থাপক ছাড়াই মাত্র ২০ মিনিট প্রচার করেছে বিবিসি। একইসঙ্গে বেশিরভাগ ক্রীড়া কভারেজেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে গণমাধ্যমটিকে।
লিনেকারের নিষেধাজ্ঞায় বিবিসির সমালোচনা করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শনিবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচগুলোতে প্লে-কার্ড হাতে গ্যালারিতে অনেককে লিনেকারের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। তারা বলছেন, ‘বিবিসি সরকারী চাপের কাছে মাথা নত করেছে। এই কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ এতে বিবিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এমনকি বিবিসির মহাপরিচালকের পদত্যাগের দাবি উঠেছে।
মুখ খুলেছেন বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি। বলেছেন, ‘এই বিষয়ে পদত্যাগ করার কোন ইচ্ছা নেই। বিবিসিতে আমরা এবং আমি সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষ নীতিতে অনুপ্রাণিত। বাম, ডান বা কোন নির্দিষ্ট দলের এজেন্ট নই।’
‘একটি সম্মত এবং স্পষ্ট অবস্থানে পৌঁছার পর লিনেকারকে উপস্থাপনায় ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা সমঝোতা করবো যাতে বিবিসির নিরপেক্ষতা বজায় রেখে উপস্থাপকরা মতামত প্রকাশ করতে পারেন।’
বিবিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশটির রাজনৈতিক দল লেবার পার্টিও। বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে একজন হাই-প্রোফাইল উপস্থাপক যেকোনো বিষয়ে নিজের অবস্থান জানাতে পারেন।

দলটির নেতৃত্বস্থানীয় একজন কিয়ার স্টারমার। বলেছেন, ‘গ্যারি লিনেকার সম্পর্কে অভিযোগকারী টোরি এমপিদের কাছে বিবিসি নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।’
বিবিসির সাবেক মহাপরিচালক গ্রেগ ডাইক গণমাধ্যমটির এমন সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘বিবিসি একটি ভুল করেছে। গ্যারি লিনেকার বিবিসির একজন জনপ্রিয় উপস্থাপক। একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে সরকারি চাপের পর তাকে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। যা দর্শকদের শতবর্ষী পুরাতন গণমাধ্যমটি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।’
প্রত্যেক দর্শককে বিবিসির গ্রাহক হওয়ার জন্য বার্ষিক ১৫৯ পাউন্ড বা ২০ হাজার টাকা ‘লাইসেন্স ফি’ দিতে হয়। বিবিসির আয়ের একটি বড় অংশ আসে এটি থেকে। লিনেকারের নিষেধাজ্ঞায় অনেকে ‘লাইসেন্স’ বাতিল করার আহ্বান জানাচ্ছেন। এমন ঘটতে থাকলে বিবিসির তহবিল হুমকির সম্মুখীন হবে।








