মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা ও ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের পাবলিক ব্রডকাস্টার বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি ও বার্তা বিভাগের প্রধান (হেড অব নিউজ) ডেবোরাহ টারনেস পদত্যাগ করেছেন।
বিবিসির সাবেক একজন পরামর্শক এই অভিযোগ তোলার পর ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য সম্পাদনাকে কেন্দ্র করে সামালোচনার মধ্যে রোববার তাঁরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
সোমবার (১০ নভেম্বর) বিবিসি ও এএফপির এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। বিবিসির ইতিহাসে একই দিনে শীর্ষ দুই কর্মকর্তার পদত্যাগ নজিরবিহীন বলে জানায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম।
বিতর্কের শুরু বিবিসির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান প্যানোরামা থেকে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের ক্যাপিটল হিল ভাষণের দুটি অংশ একত্র করে সম্পাদনা করা হয়। এতে ভাষণটি এমনভাবে উপস্থাপিত হয় যেন ট্রাম্প সরাসরি দাঙ্গায় উসকানি দিচ্ছেন। ফাঁস হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে বলা হয়, সম্পাদনাটি দর্শকদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং এটি বিবিসির সম্পাদকীয় নীতির লঙ্ঘন।
পদত্যাগের বিষয়ে এক বিবৃতিতে টিম ডেভি বলেন, ‘তথ্যচিত্রটিতে কিছু ভুল হয়েছে। মহাপরিচালক হিসেবে এর দায়িত্ব আমাকে নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, বিবিসি নিখুঁত নয়। আমরা সবসময় জবাবদিহি ও স্বচ্ছ থাকার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর দায়ভার চূড়ান্তভাবে আমার উল্লেখ করে বার্তা বিভাগের প্রধান ডেবোরাহ টারনেস বলেন, প্যানোরামা বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিবিসির ক্ষতি করছে। জনজীবনের নেতাদের দায় নিতে হয়, তাই আমি পদত্যাগ করছি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক অভিযোগে বিবিসিকে ‘প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট’ বলা ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।
এ নিয়ে এরই মধ্যে ক্ষোভ দেখিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, বিবিসি একটি ‘শতভাগ ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ ও ‘প্রোপাগান্ডা মেশিন’। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ অভিযোগ করেন তিনি।
পদত্যাগের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, বিবিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা পদত্যাগ করছেন কারণ তারা আমার নিখুঁত ভাষণ বিকৃত করার জন্য ধরা পড়েছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ!
যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতি সচিব লিসা নন্দি বলেন, ডেভি বিবিসিকে বড় পরিবর্তনের সময় নেতৃত্ব দিয়েছেন। রক্ষণশীল নেতা কেমি ব্যাডেনোচ মনে করেন, দুটি পদত্যাগ যথেষ্ট নয়; বিবিসিকে প্রকৃত নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি বলেন, এই পদত্যাগ বিবিসির জন্য নতুন শুরু হতে পারে। ডেভি আরও জানিয়েছেন, তার বিদায়ের ফলে পরবর্তী নেতৃত্বের কাছে সুশৃঙ্খল স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।
বিবিসি চেয়ারম্যান সামির শাহ এক বিবৃতিতে বলেন, এটি বিবিসির জন্য দুঃখজনক দিন। টিম ডেভির প্রতি বোর্ডের পূর্ণ আস্থা ছিল, তবে আমরা তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তিনি সংসদীয় কমিটিতে ক্ষমা প্রার্থনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিবিসি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক পক্ষপাত ও সম্পাদকীয় ভুলের অভিযোগে বিতর্কের মুখে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গাজা যুদ্ধের কভারেজে ভারসাম্যহীনতা, ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে সংবাদ ‘সেন্সর’ করার অভিযোগ ও অনুপযুক্ত সম্প্রচারের দায়ে তদন্ত। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনায় বিবিসির নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা পুনর্গঠনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।








