ঠাকুরগাঁওয়ে আদালত চত্বরের ভেতরে চা পান করার সময় অজ্ঞাত একদল লোকের আকস্মিক হামলায় চারজন বাউল শিল্পী আহত হয়েছেন। ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দিতে হামলাকারীরা তাঁদের মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে অজ্ঞাত হামলাকারীদের নামে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মো. মকলেস (৩৮)।
এরআগে, বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে হামলার শিকার হওয়ার পর আহত বাউলরা ঠাকুরগাঁও সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই ঘটনা বাউল সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিন্দা ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত বাউলরা হলেন- মো. মকলেস (৩৮) এবং তার তিন সঙ্গী মো. মোখলেছুর রহমান (৪০), মজিদ সরকার (৬৬), এবং মো. সামসুদ্দিন চিশতী (৭০)। তাদের সবাইকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মনজুরুল ইসলাম।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, বুধবার বেলা ২টার দিকে মো. মকলেস মামলার হাজিরা শেষে তার গুরু বাউল শামসুদ্দিন, মজিদ সরদার এবং দীপক (অপর সঙ্গী) এর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তাঁরা কান্তজীউ মন্দিরের মেলাতে এসেছিলেন। কোট চত্বরে চা পান করার সময় কিছু বোঝার আগেই একদল লোক তাদের উপর্যুপরি মারধর শুরু করে এবং অন্যরাও তাতে যোগ দেয়। তাদের কাউকে চিনতে পারেননি তিনি।
মো. মকলেস জানান, এ সময় একদল লোক স্লোগান দিতে দিতে এসে আকস্মিকভাবে তাঁদের ওপর হামলা করে। এতে তাঁরা সামান্য আহত হন এবং হামলাকারীরা তাঁদের বিভিন্ন প্রকার হুমকিও দেয়।
তিনি আরও জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর শামসুদ্দিনকে জয়পুরহাট এবং মজিদ সরকারকে ঢাকার সাভারে যাওয়ার জন্য দ্রুত ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাউল শিল্পীদের এভাবে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, ঠাকুরগাঁও শহরের আট গ্যালারি এলাকার পাগলু স্ট্যান্ডের সভাপতি খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, বাউল মকলেস তাঁদের পাগলু স্ট্যান্ডের নাইট গার্ড ছিলেন এবং একটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে তিনি গণপিটুনির শিকার হয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরোয়ারে আলম খান জিডি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি জিডি হয়েছে। কারা হামলা করেছে, তাদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আদালতের অনুমতি নিয়ে জিডির তদন্ত করা হবে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।








