শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসন্তী পূজা। প্রতি বছর চৈত্র মাসে আয়োজিত এই পূজা সনাতনী ভক্তদের মনে এনেছে ধর্মীয় ও আনন্দময় আবহ।
শরৎকালে যেমন শারদীয়া দুর্গাপুজো হয়, তেমনই চৈত্র মাসে বসন্তকালে হয় বাসন্তী দুর্গাপূজা। বর্তমানে শারদীয়া দুর্গাপুজোর কাছে জৌলুস হারালেও বাসন্তীপূজাই হল আদি দুর্গাপূজা। রামচন্দ্র শরৎকালে অকালবোধন করে মা দুর্গার পূজা করার আগে দেবী দুর্গার আরাধনা হত এই বসন্তেই। প্রকৃতপক্ষে, বাসন্তী পূজা হল রাজা সুরথ কর্তৃক প্রবর্তিত আদি দুর্গাপূজা। কিংবদন্তি অনুসারে, শরৎকালে ভগবান রাম দুর্গাপূজা করেছিলেন, যাকে বলা হয় অকাল বোধন!
বাসন্তী পূজা উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে চলছে পূজার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। সিনিয়র শিক্ষক ও সাংবাদিক ঝলক দত্ত জানান, এবছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন মিলিয়ে মোট ৪৫টির অধিক পূজা মণ্ডপে বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য পূজা মণ্ডপ রয়েছে শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী বাড়ি, শ্রীমঙ্গল পৌর শ্মশান ঘাট, নির্মাই শিববাড়ি, রূপসপুর আবাসিক এলাকার তিনটি পূজা মণ্ডপ, দেববাড়ি, গন্ধর্বপুর এবং সন্ধানী আবাসিক এলাকায়। এদিকে, কাকিয়াছড়া চা বাগান থেকে ভক্ত প্রতাপ মাঝি জানান, চা শ্রমিক-পরিবারের আয়োজনে কাটাবট মণ্ডপেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বাসন্তী পূজা।
আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে সপ্তমী পূজার মধ্য দিয়ে। সকাল থেকেই পূজা মণ্ডপগুলো মুখরিত হয়ে ওঠে। পুরোহিতরা মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে আবাহন করেন আর ভক্তরা নিবেদন করছেন অঞ্জলী। গতকাল শনিবার ছিল মহাঅষ্টমী পূজা, আজ (রবিবার) মহানবমী আর সোমবার পুষ্পাঞ্জলি ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই বাসন্তী পূজা শেষ হবে।
বাসন্তী পূজাকে ঘিরে শ্রীমঙ্গলে সনাতনীদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভক্তরা মন্দিরে উপস্থিত হয়ে দেবীর চরণে প্রণাম নিবেদন ও পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করছেন।








