‘লোকেরা সব রকম কথা বলে। ইনস্টাগ্রামে আমার মেয়ের মৃত্যু কামনা করে মন্তব্য রয়েছে, যে এখনো জন্মগ্রহণ করেনি। তারা আমাকে এটি মুখে বলবে না, কারণ আমাদের সমস্যা হবে। কিন্তু মন্তব্যে তারা যা চায়, তাই লেখে। তারা আমার সঙ্গী, আমার মেয়ে, আমাদের অনাগত শিশুর জন্য ক্ষতিকারক। এটা নিষ্ঠুর এক পৃথিবী এবং এসব কিছুর মাঝে কীভাবে বাঁচবেন, তা আপনাকে জানতে হবে। আমি জানি কীভাবে বাঁচব, কিন্তু আর কী বলব তা জানি না।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজির কাছে হেরে বিদায় নেয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর হুমকি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এ কথাগুলো বলেন হোয়াও ক্যানসেলো। বার্সার এ পর্তুগিজ ডিফেন্ডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারে নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা নিয়ে সাক্ষাৎকারে ছিলেন সরব।
প্যারিসে প্রথম লেগে ৩-২ গোলের জয়ে বেশ চনমনে মেজাজেই ছিল বার্সেলোনা। বার্সেলোনা অলিম্পিক স্টেডিয়ামে গত মঙ্গলবার রাতে পিএসজির কাছে অবশ্য ৪-১ গোলে হেরে যায়। দুই লেগ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় কাতালান ক্লাবটি শেষ চারে পা রাখতে পারেনি ।
হতাশাকে পাশ কাটিয়ে রোববার রাতে লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সা। এর আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ক্যানসেলো তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি পাওয়ার বিষয়টি ফাঁস করেন। শিশু সন্তানও হত্যার হুমকি থেকে রেহাই না পাওয়া নিয়ে দেন প্রতিক্রিয়া।
‘একটি শিশুর মৃত্যু কামনা করা সত্যিই গুরুতর বিষয়। টেলিভিশনে তারা যে ফুটবলারকে দেখেন, তার পেছনের মানুষটির কথা মানুষ ভাবেন না। আমরাও মানুষ। আমরাও একই রকম।’
ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ধারে বার্সায় আসা এ ফুটবলার আরও বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্সের সমালোচনা করুন। তাতে আমি কিছু মনে করি না। কিন্তু আমার পরিবার নিয়ে কথা বলবেন না।’
কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে প্রতিপক্ষের ফুটবলার উসমানে ডেম্বেলেকে ডি বক্সে ফাউল করেছিলেন ক্যানসেলো। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর পর স্পট কিক থেকে তৃতীয় গোলের দেখা পায় পিএসজি।
২৯ বর্ষী ফুটবলারের ফাউল করা নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ডের তির্যক মন্তব্যের শিকার হন। ফার্ডিনান্ড বলেছিলেন, ‘ক্যানসেলো মূর্খ, নির্বোধ এবং আতঙ্কের ভেতর থাকা এক অনভিজ্ঞ তরুণ খেলোয়াড়ের মতো।’
‘ফার্ডিনান্ড একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় ছিলেন। তবে আমি নিশ্চিত তিনিও ভুল করেছেন, ‘আমরা সবাই করি। তবে অবশ্যই, সমালোচনা করা তার কাজ। তিনি একজন বিশ্লেষক এবং যা মনে করেন তা বলার অধিকার উনার আছে। আমি সমালোচনা মেনে নিচ্ছি, এটা তার মতামত। হয়তো আমি যেভাবে পেনাল্টি দিয়েছিলাম সেটা শিশুসুলভ ভুল ছিল। তবে সেই খেলার পরিস্থিতি তখন যেমনইটাই থাকুক, এই মুহূর্তে আমার মাথা ঠিক আছে। আমি সমালোচনা মেনে নিচ্ছি।’
পরাজয়ের ধাক্কা সামলে জাভি হার্নান্দেজের দলের সামনে এবার এল ক্লাসিকো পরীক্ষা। লা লিগায় রিয়ালের চেয়ে ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকায় বার্সার শিরোপা জয়ের আশা খুবই কম। ব্যবধান কমিয়ে সম্ভাবনা খানিকটা বাড়ানোর সুযোগ অবশ্য তাদের থাকছে। ক্যানসেলো আপাতত সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাইছেন।
‘সত্যি বলতে এটা সত্যিই কঠিন এক সপ্তাহ ছিল। আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অনেকদূর যেতে পেরে রোমাঞ্চিত ছিলাম। এই ক্লাবটি সেটার যোগ্য বলেই মনে করি। পিএসজির সঙ্গে হারের সেই রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। ব্যক্তিগতভাবে যখন জিততে পারি না, সত্যিই আমার ঘুমাতে কষ্ট হয়। কারণ আমার মনে হয় নিজের কাজ ভালোভাবে করিনি।’
‘আমি শুধু নিজেকেই বলছি। ফুটবল অদ্ভুত একটা খেলা। আমরা যেভাবে হেরেছি, সেটাই আমার ঘুম হারাম করে দিয়েছে। আমি মনে করি প্রতিপক্ষের ১১ জনের সঙ্গে আমরা ১১ জন জিততে পারতাম। কিন্তু আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’








