বান্দরবানের রুমার পর এবার থানচি উপজেলায় সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের দু’টি শাখায় হামলা চালিয়ে টাকা ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, লুটের এসকল ঘটনায় সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) জড়িত।
ডাকাতিগুলো কীভাবে সংগঠিত হচ্ছে? জানার চেষ্টা করেছি আমরা। দু’টি স্পটে তিনটি ব্যাংকের শাখায় লুটের ঘটনায় শুরুতে অস্ত্র দেখিয়ে মানুষ জিম্মি করে ভীতি সঞ্চারণের চেষ্টা করেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
শুরুটা মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে সোনালী ব্যাংক রুমা শাখায় কেএনএফের ৭০ থেকে ৮০ জন সশস্ত্র সদস্য রুমা উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘেরাও করে। তারা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে পাহারারত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর করতে থাকে। ব্যাংকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ব্যাংকের পাহারারত পুলিশ-আনসার সদস্যদের চারটিসহ মোট ১৪টি অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। তাদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের এক কর্মচারী আহত হন। রুমার এ শাখাটি থেকে ভল্ট ভেঙে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংক রুমা শাখার ব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় কেএনএফ।
ব্যাংক লুটের দ্বিতীয় ঘটনা আজ বুধবার। বান্দরবানের আরেক উপজেলা থানচিতে অস্ত্রের মুখে সোনালী এবং কৃষি ব্যাংক ডাকাতি করে একই সশস্ত্র গোষ্ঠী।
এবারের ঘটনায়: বেলা একটার দিকে থানচি সদরের শাহজাহানপুরের দিক থেকে তিনটি চাঁদের গাড়িতে করে সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে বাজার এলাকায় প্রবেশ করে। এরপর থানচি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে নগদ টাকা যা পেয়েছে তা নিয়ে চলে যায়। এরপর তারা আবার ওই তিন গাড়িতে করে শাহজাহানপুরের দিকে চলে যায়।
এ ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বান্দরবানে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবি ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বান্দরবানের সব ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ব্যাংকগুলো লেনদেন স্থগিত করে দেয়।
এদিকে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
তিনি বলেছেন: বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে ব্যাংক লুটের ঘটনায় যা যা করণীয়, তার সবই করছে সরকার। কী কারণে হঠাৎ করে এটি ঘটলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখানে গোলাগুলি চলছে। পুলিশ-বিজিবি এখন আছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী যুক্ত হবে। বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করছি পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো।







