মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক জান্তার সাথে আরাকান সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। একইসাথে সীমান্ত দিয়ে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশংকা তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে।
গত কয়েক দিনে যুদ্ধের গোলা ও মর্টার শেল এসে পড়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী গ্রামে। এ ঘটনায় কক্সবাজার বিজিবির পক্ষ থেকে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। এ নিয়ে স্থানীয়রা আবারও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের আশংকা করছেন। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি প্রশাসন পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বিজিবিসহ আইন শৃংখলা বাহিনী সীমান্তে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর সাথে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্টি আরাকান আর্মির মধ্যে গত এক মাসের বেশী সময় ধরে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের সর্বত্রই এ লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে বলে নানা সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে রাজ্যটির বড় অংশ বিচ্ছিন্নতীবাদী গোষ্টির দখলে রয়েছে। এতে উভয়পক্ষের তীব্র সংঘাত-সংঘর্ষের জেরে রোহিঙ্গা জনগোষ্টির অসংখ্য মানুষ হতাহতও হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে রাজ্যটির অস্থির ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশংকা দেখা দিয়েছে।
শনিবার বিকেল থেকে উখিয়া উপজেলা সীমান্তের ওপারে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে রহমতের বিল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দার বসত ঘরে একটি গুলি এবং ১৩টি মর্টারশেল এসে পড়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, রোববারও দিনভর সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। সীমান্ত লাগোয়া ওপারে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা আতংকে রয়েছেন। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে রোহিঙ্গাদের আবারও অনুপ্রবেশের আশংকা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সীমান্তবাসীর আতংক কাটাতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিজিবিসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রোববার অস্থিতিশীল এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান। এসময় তিনি বিজিবির সদস্যদের প্রতি সীমান্তে কঠোর নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্কতামূলক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।
এছাড়াও কক্সবাজার বিজিবির পক্ষ থেকে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উর্ধ্বতন মহলে অবহিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোন রোহিঙ্গার যাতে অনুপ্রবেশ না ঘটে এ ব্যাপারে প্রশাসন সার্বিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কক্সবাজার এবং বান্দরবান জেলায় ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। বিজিবির সংশ্লিষ্টরা জানান, এমন পরিস্থিতিতে বিজিবি সীমান্ত এলাকাজুড়ে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।








