বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তা ফাতিন আনাম রাফিদ-এর স্টার্টআপ বন্দু সম্প্রতি ৫.৩ মিলিয়ন ডলারের সিড বিনিয়োগ পেয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো ভিত্তিক এই স্টার্টআপটি শিশুদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ইমোশনাল সঙ্গী তৈরি করে প্রযুক্তি জগতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।
ঢাকার নটর ডেম কলেজ ও সেন্ট জোসেফ -এ পড়াশোনা করা ফাতিন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য তার ভবিষ্যৎ পথচলার ভিত্তি তৈরি করে।
ফাতিন আনাম রাফিদ ছোটবেলা থেকেই গণিত ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিতেন। বর্তমানে তিনি সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘বন্দু’-এর প্রতিষ্ঠাতা।
বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়ে তিনি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার এই যাত্রা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।
তার সিড বিনিয়োগ, যার নেতৃত্বে ছিল ‘মেকাস ফান্ড’। এছাড়াও স্যামসাং ভেঞ্চারস ও বুস্ট ভিসি-র মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এতে যুক্ত হয়েছে। ফাতিনের এই অর্জন সিলিকন ভ্যালিতে বাংলাদেশি তরুণদের মেধার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ফাতিন শিশুদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এক বিশেষ খেলনা তৈরি করেছেন, যার নাম ‘ডিনো’। এটি কেবল একটি সফট টয় নয়, বরং শিশুদের জন্য একটি ‘ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্ট’ সঙ্গী। ডিনো শিশুদের সঙ্গে কথা বলতে পারে, তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়। স্ক্রিন ছাড়াই এটি শিশুদের সঙ্গে গল্প করতে সক্ষম, যা বর্তমান সময়ে শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন-নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। ‘বন্ধু’ শব্দটির ইংরেজি রূপান্তর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয়েছে ‘বন্দু’।
শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফাতিনের প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সজাগ। ‘ডিনো’ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ‘কিডস সেফ সিল প্রোগ্রাম’ সার্টিফিকেশন পেয়েছে, যা শিশুদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। যদিও শুরুতে কিছু প্রাইভেসি ইস্যু দেখা দিয়েছিল, তবে ফাতিন ও তার দল দ্রুততম সময়ে তা সমাধান করেছেন। প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের যুগে ফাতিনের তৈরি ‘ডিনো’ শিশুদের কেবল খেলার সাথি নয়, বরং তাদের শেখার এক নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিচ্ছে।








