শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারেনি টিম টাইগার্স। ৪ রানে হেরে যায় সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে। দুটি ম্যাচে ব্যাটে আলো ছড়িয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ফলও পেলেন। আইসিসির সবশেষ র্যাঙ্কিংয়ে দারুণ উন্নতি করেছেন। টাইগার ব্যাটারদের শীর্ষে এখন এ মিডলঅর্ডার ব্যাটার। বাংলাদেশি বোলারদের শীর্ষ ধরে রেখেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। রিশাদ হোসেন-তানজিম হাসান সাকিব ও তাসকিন আহমেদ মন জুড়ানো উন্নতি করেছেন।
শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে জয়ের নেপথ্যে অবদান রেখেছিলেন হৃদয়। ২০ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটে দারুণ করেও জয় এনে দিতে পারেননি। ৩৪ বলে ৩৭ রান করেন। ব্যাটে ধারাবাহিকতা, র্যাঙ্কিংয়ে ৩২ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ২৭ নম্বরে। ৫৭৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে শীর্ষে আছেন। আগে শীর্ষে থাকা লিটন দাসের অবনতি হয়েছে দুধাপ। ৫২৪ রেটিং নিয়ে নেমেছেন ৪১ নম্বরে। উন্নতি করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুই ম্যাচে ভরসার পাত্র হয়ে চার ধাপ এগিয়েছেন। ৪১৭ রেটিং নিয়ে আছেন ৭২ নম্বরে।
সাম্প্রতিক ফর্মহীনতা প্রভাব ফেলেছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত’র র্যাঙ্কিংয়ে। ৬ ধাপ পিছিয়ে নেমেছেন ৪৯ নম্বরে। ৪৯৮ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মার সাথে। পাঁচধাপ অবনতিতে সাকিব নেমেছেন ৮৪ নম্বরে। ৩৯৭ রেটিং পয়েন্ট তার। বিশ্বকাপে না থাকা আফিফ হোসেনের অবনতি হয়েছে একধাপ। ৩৯৪ রেটিং নিয়ে নেমেছেন ৮৭ নম্বরে। বিশ্বকাপের শুরুর দুটি ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন ওপেনার তানজিদ তামিম। র্যাঙ্কিংয়ে অবনতি হয়েছে ১৯ ধাপ। ৩৫৯ রেটিং নিয়ে নেমেছেন ৯৯ নম্বরে।
৮৩৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন ভারতের সূর্যকুমার যাদব। ৮০০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। ৭৫৬ পয়েন্ট নিয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে পেছনে ঠেলে তিনে এসেছেন বাবর আজম। ৭৫২ পয়েন্ট নিয়ে রিজওয়ান নেমেছেন চারে।
বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে বেশি উন্নতি করেছেন তানজিম হাসান সাকিব। ১০৮ ধাপ এগিয়ে প্রথমবার এসেছেন সেরা একশোতে। ৩৮৮ পয়েন্ট নিয়ে ৯৭ নম্বরে উঠেছেন। উন্নতি করেছেন রিশাদ হোসেন। ২৪ ধাপ এগিয়ে এসেছেন ৩০ নম্বরে। ৫৪৮ রেটিং পয়েন্ট তার। মোস্তাফিজুর রহমানের উন্নতিও মন জুড়ানো। ১০ ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ১৩ নম্বরে। ৬২০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আছেন বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে শীর্ষে। চোট কাটিয়ে ফেরা তাসকিন উন্নতি করেছেন ৮ ধাপ। ৫৯৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে উঠেছেন ১৯ নম্বরে।
বিশ্বকাপে এখনও সুযোগ না পাওয়া শেখ মেহেদীর অবনতি হয়েছে দুধাপ। ৫৩৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নেমেছেন ৩৩ নম্বরে। সাকিবের অবনতি হয়েছে ছয় ধাপ। ৫২৪ রেটিং নিয়ে তার অবস্থান ৫২৪ নম্বরে। ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। বিশ্বকাপে এখনও খেলতে না পারায় নেমেছেন ৮ ধাপ। ৪৭৮ রেটিং নিয়ে আছেন ৫১ নম্বরে।
বিশ্বকাপ দলে না থাকা হাসান মাহমুদ ও নাসুম আহমেদের অবনতি হয়েছে। হাসান নেমেছেন ৯ ধাপ, নাসুম ১০ ধাপ। ৪৫৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দুজনে যৌথভাবে আছেন ৬৬ নম্বরে। ৭০৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বল হাতে শীর্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভানিডু হাসারাঙ্গার রেটিং পয়েন্ট ৬৭৬।
অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ হারিয়েছেন সাকিব। ১৫ রেটিং পয়েন্ট কমায় এক লাফে নেমে গেছেন পাঁচে। বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স করে অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে নিয়েছেন আফগান মোহাম্মদ নবি। দুধাপ এগিয়ে ২৩১ রেটিং নিয়ে উঠেছেন শীর্ষে। তিন ধাপ এগিয়ে দুইয়ে এসেছেন অজিদের মার্কাস স্টয়নিস, ২২৫ রেটিং পয়েন্ট তার। ২১০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে একধাপ পিছিয়ে তিনে নেমেছেন লঙ্কান ভানিডু হাসারাঙ্গা। ২১০ রেটিং নিয়ে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা বহাল আছেন চারে।
অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে টাইগারদের মধ্যে উন্নতি করেছেন মাহমুদউল্লাহ ও রিশাদ। ১০ ধাপ এগিয়ে ৭৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৪৫ নম্বরে উঠেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৫ ধাপ এগিয়ে ৫৫ নম্বরে রিশাদ। ৬৭ রেটিং নিয়ে যৌথভাবে অবস্থান করছেন ইংল্যান্ডের ক্রিস জর্ডানের সঙ্গে।
অবনতি হয়েছে শেখ মেহেদী ও আফিফের। ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে ২ ধাপ পিছিয়ে ৪৮ নম্বরে মেহেদী। আফিফ নেমেছেন দুধাপ। ৫৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আছেন ৭০ নম্বরে। ব্যাটে-বলে ধারাবাহিকতা না থাকায় র্যাঙ্কিংয়ের সেরা একশোতে স্থান হারিয়েছেন সৌম্য সরকার।








