‘একজন খেলোয়াড় কখনও কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আসে না। খেলোয়াড়ের কাজ হচ্ছে সে যদি ব্যাটার হয় ব্যাটিং করা, দলের জন্য অবদান রাখা, সে যদি বোলার হয় তার কাজ হচ্ছে ভালো বোলিং করা, উইকেটটা ভাগ্যের ব্যাপার থাকে।’
ভারতের সাবেক ওপেনার বীরেন্দ্রর শেবাগের সমালোচনার জবাবটা এমন মন্তব্যেই দিলেন সাকিব আল হাসান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইগারদের জয়ের নায়ক সংবাদ সম্মেলনে আগ্রাসী মনোভাব না দেখিয়ে বিনয়ের সুরে প্রসঙ্গটি নিয়ে নিজেরব দৃষ্টিভঙ্গি জানান।
বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিবের সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছিল না। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বল করেছেন মাত্র এক ওভার। প্রোটিয়াদের অল্প রানে আটকে দিলেও সেটি টপকাতে তিনি ব্যাট হাতে কোনো অবদান রাখতে পারেননি। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ছিলেন অনুজ্জ্বল। টাইগারদের সাবেক অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্সের সমালোচনা চলছিল বিস্তর। তাতে শামিল হয়ে তির্যক মন্তব্য করেছিলেন শেবাগ।
অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা মি. অলরাউন্ডার ভালো পারফরম্যান্স না করলে সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন। তার ভাষ্য, সে (ক্রিকেটার) যখন ফিল্ডিং করে তখন তার কাজ হচ্ছে প্রতিটা রান বাঁচানো। যতগুলো ক্যাচ তার কাছে যায়, ততগুলো ধরা। এখানে আসলে উত্তর দেয়ার কিছু নাই কাউকে। বর্তমান একজন খেলোয়াড় সে দলের হয়ে কতটা কৃতিত্ব রাখতে পারে, সেটা মুখ্য। সেটা যখন রাখতে পারে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই কথা হবে এবং আমি মনে করি সেটা খুব খারাপ কিছুও না।’
সাকিব আল হাসানের পড়তি পারফরম্যান্স নিয়ে শেবাগের মন্তব্য ছিল, ‘আপনাকে বিশ্বকাপ দলে যদি অভিজ্ঞতার জন্য রাখা হয়, তাহলে তার মূল্যায়ন করতে শিখুন। উইকেটে কিছু সময় টিকে থাকুন।’
‘আপনি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বা ম্যাথু হেইডেন নন। আপনি বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়। হুক-পুল আপনার শক্তির জায়গা নয়। আপনার শক্তি অনুযায়ী খেলুন, অন্তত মিডল ওভারে কিছু সময় টিকে থাকুন।’
এরপর সাকিবকে অবসরের পরামর্শ দিয়ে শেবাগ বলেছিলেন, ‘গত বিশ্বকাপের পর, আমি মনে করেছিলাম তাকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে রাখা হবে না। অবসরের সময় আরও অনেক আগে এসেছিল। আপনি অনেক সিনিয়র একজন খেলোয়াড়, এই দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সুতরাং, আপনার পরিসংখ্যান দেখে লজ্জা পাওয়া উচিত। আপনার এমন ঘোষণা করা উচিত যে, অনেক হয়েছে। আমি এ সংস্করণ থেকে অবসরে যাচ্ছি।’







