মেয়েদের অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপ ফুটবলে নিজেদের প্রথম আসরে খেলতে নেমে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। সাগরিকার জোড়া গোলে এগিয়ে জয়ের পথেই ছুটছিল কোচ পিটার বাটলার শিষ্যরা। তবে হঠাৎ ছন্দপতনে খেই হারায় মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ১০ মিনিটে জোড়া পেনাল্টিসহ তিন গোল হজম করে জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ৩-২ গোলে হার দেখতে হয়েছে স্বপ্না-নবীরনদের।
থাইল্যান্ডের থাম্মাসাত স্টেডিয়ামে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচের বাংলাদেশের গোল দুটি আসে সাগরিকার পা থাকে। স্বাগতিকদের হয়ে গোল করেন কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচ, রিনায়াপাত মুনডং ও পিচায়াতিদা মানোওয়াং।
ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে লড়াই গড়ায়। ম্যাচের ১১ মিনিটে সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। স্বপ্নার দূরপাল্লার শট যায় সরাসরি গোলরক্ষকের কাছে। ১৬ মিনিটে স্বাগতিকদের নেয়া ফ্রি কিক মিলি আক্তারে গ্লাভস থেকে বেরিয়ে যায়। ফিরতি বলে কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচ শট নিলেও তা বাইরে চলে যায়।
২৫ মিনিটে স্বপ্নাকে তুলে পুজা দাসকে নামান কোচ বাটলার। এর কিছুক্ষণ থাইল্যান্ডের দূরপাল্লার শট ঠেকান মিলি। ৩৫ মিনিটে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে গতিতে প্রতিপক্ষের সব ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে গোলকিপারের পাশ দিয়ে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন সাগরিকা।
পিছিয়ে পড়া থাইল্যান্ডের আক্রমণের ধার কমে কিছুটা। এরপরও কয়েকটি আক্রমণ করে বাংলাদেশ। তবে জালের দেখা পায়নি। শেষ অবধি ১-০তে এগিয়ে বিরতিতে যায় বাটলার শিষ্যরা।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও দাপট দেখায় বাংলাদেশ। ৪৯ মিনিটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ২-০ করেন সাগরিকা। তখন মনে হচ্ছিল, স্বাগতিকদের মাটিতে এক ঐতিহাসিক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
কিন্তু ৬৯ মিনিটে ম্যাচের চিত্রপট পুরোপুরি বদলে যায়। বক্সের ভেতর থাইল্যান্ডের এক ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে বসেন সুরভী আক্তার আরফিন। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে গোল করে থাইল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান কুরিসারা।
প্রথম গোল হজম করে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশের মেয়েরা এরপর নিজেদের বক্সের ভেতর খেই হারিয়ে ফেলে। ৭৬ মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় থাইল্যান্ড। এবার বক্সের ভেতর পিচায়াতিদাকে ফেলে দেন নবীরন খাতুন। স্পট কিক থেকে রিনায়াপাত মুনডং নিখুঁত শটে গোল করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান।
সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা থাইল্যান্ড বাংলাদেশের ওপর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। ৭৯ মিনিটে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন পিচায়াতিদা। ৩-২ ব্যবধানে লিড নেয় থাইল্যান্ড।
ম্যাচের বাকি সময়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও থাই রক্ষণভাগ আর কোনো ভুল করেনি। ফলে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকলে ৩-২ গোলে হার মেনে মাঠ ছাড়তে হল বাটলার শিষ্যদের।






