মিরপুর টেস্টে আয়ারল্যান্ডকে ফলোঅন করানোর সুযোগ থাকলেও তা করায়নি বাংলাদেশ। ২১১ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে আইরিশদের সামনে পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে টিম টাইগার্স। চার ফিফটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৭ রান করে ইনিংস ছেড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জিততে সফরকারীদের করতে হবে ৫০৯ রান।
বুধবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে টিম টাইগার্স। প্রথম ইনিংসে ১৪১.১ ওভারে ৪৭৬ রানে থামে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জবাবে নেমে শুক্রবার ম্যাচের তৃতীয় দিন দ্বিতীয় সেশনে গুটিয়ে যায় আইরিশরা। ৮৮.৩ ওভারে ২৬৫ রান করে তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে বাংলাদেশ ৬৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২৯৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। আগের ২১১ রানসহ টাইগারদের মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫০৮ রান।
৩৭ ওভারে ১ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দিনের চতুর্থ ওভারে উইকেট হারায় লাল-সবুজের দল। সাদমান ফিরে যান ১১৯ বলে ৭৮ রান করে। এরপর শান্তও ফিরে যান দ্রুত। বাংলাদেশ অধিনায়ক ১ রান করেন। ১৭৪ রানে তিন উইকেট হারানোর পর মুমিনুল ও মুশফিকুর রহিম মিলে ১২৩ রানের জুটি গড়েন। ফিফটি করেন দুজনেই।
৬৯তম ওভারের শেষ বলে মুমিনুল আউট হন ৮৭ রান করে। ১১৮ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চারের মার। বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত ইনিংস ঘোষণা করেন। মুশফিক অপরাজিত থাকেন ৫৩ রানে। ৮১ বলের ইনিংসে ছিল ২ চার ও ১টি ছক্কার মার।
ফিফটিতে অনন্য এক কীর্তিতে নাম লেখালেন মুশি। দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে দুই ইনিংসে ফিফটির বেশি রান করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার মুশফিক। প্রথম জন রিকি পন্টিং, ২ ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার তৃতীয় দিন দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনীতে ১১৯ রানের জুটি গড়েন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম। ফিফটি করেন দুই ওপেনারই। ৩১.১ ওভারে পঞ্চম টেস্ট ফিফটি করে মাহমুদুল আউট হলে জুটি ভাঙে। ৬ চারে ৯১ বলে ৬০ রান করে যান। পরে মুমিনুলকে নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেন সাদমান।
দ্বিতীয় ইনিংসে আইরিশদের হয়ে গ্যাভিন হোয়ে ২ উইকেট নেন। অ্যান্ডি ম্যাকব্রিনে ও জর্ডান নেইল ১টি করে উইকেট নেন।
বুধবার প্রথমদিনে ব্যাটে নেমে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনের প্রথম দুই সেশন পর্যন্ত ব্যাট করে। সেঞ্চুরি করেন শততম টেস্টে নামা মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। ৯০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৯২ রানে প্রথমদিন শেষ করা স্বাগতিকরা দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করে আরও ৫১.১ ওভার। যোগ করে ১৮৪ রান।
শততম টেস্টে নেমে সেঞ্চুরির অনন্য কীর্তিতে নাম লেখান মুশফিক। ইতিহাসের ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে মাইলফলকে নাম লেখান। সঙ্গে বাংলাদেশ জার্সিতে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডে মুমিনুল হকের সঙ্গে ভাগ বসান। দুজনেই ১৩টি করে শতকের দেখা পেয়েছেন। ৫ চারে ২১৪ বলে ১০৬ রান করে ফেরেন মুশফিক।
ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন লিটন দাস। ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ১৯২ বলে ১২৮ রান করে ফিরেছেন। প্রথম ইনিংসে ফিফটি পেয়েছেন মুমিনুল হক। ১২৮ বলে ৬৩ রান করেছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ৪৭, সাদমান ইসলাম ৩৫ এবং মাহমুদুল হাসান জয় ৩৪ রান করেছেন।
প্রথম ইনিংসে আইরিশ স্পিনার আন্ডি ম্যাকব্রিনে ৬ উইকেট নেন। ম্যাথিউ হামফ্রেয়াস ও গ্যাভিন হোয়ে নেন দুটি করে উইকেট।
জবাবে নেমে ২৬৫ রানে থামে আইরিশ ইনিংস। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন লোরকান টাকার। ১৭১ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৪৯ রান করেন জর্ডান নেইল। ৪৬ রান করেন স্টেফেন দোহেনি। ২৭ রান করেন পল স্টার্লিং, ২১ রান আসে অ্যান্ডি বালবির্নের ব্যাট থেকে।
প্রথম ইনিংস থেকে তাইজুল ইসলাম ৪ উইকেট নেন। তাতে সাকিব আল হাসানের একটি রেকর্ডে ভাগ বসান। টেস্টে এতদিন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়া বোলার ছিলেন সাকিব। তাইজুল স্পর্শ করেছেন রেকর্ডটি। দুজনের উইকেট সংখ্যাই এখন ২৪৬। দ্বিতীয় ইনিংসে একটি উইকেট নিতে পারলে শীর্ষে চলে যাবেন তাইজুল।
খালেদ আহমেদ ও হাসান মুরাদ ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও ইবাদত হোসেন নিয়েছেন একটি করে উইকেট।








