স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ২৪৪ রানে অলআউট করে ওয়ানডে সিরিজে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে লঙ্কান স্পিন বিষে নীল হয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ভালো এগিয়ে একসময় ৫ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারানোর পর ৭৭ রানের বড় পরাজয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। আর টানা সপ্তম ম্যাচে হারল বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন চারিথ আসালাঙ্কা। অধিনায়কের সেঞ্চুরির ১০৬ রানের সুবাদে ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। জবাব দিতে নেমে ভালো শুরুর পর খেই হারায় বাংলাদেশ। অলআউট হয় ১৬৭ রানে, শ্রীলঙ্কা জয় পায় ৭৭ রানে।
২৪৫ রানে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটে নেমে দুই ওপেনার ২৯ রানের জুটি গড়েন। অভিষিক্ত পারভেজ হোসেন ইমন ১৩ রান করে আউট হওয়ার পর হাল ধরেন তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের জুটিতে আসে ৭১ বলে ৭১ রান। ২৩ করে শান্ত রান আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১০০।
এরপর বাংলাদেশের ব্যাটাররা আর বল চোখে দেখছিলেব না! ভানিডু হাসারাঙ্কা ও কামিন্দু মেন্ডিস ১০০-১০৫ রানের মধ্যে তুলে নেন আরও ৬ উইকেট। এসময় বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১০৫ রানে ৮ উইকেট। একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা জাকের আলী অনিক ভূমিকা রাখেন, সেটা জয় পর্যন্ত নিতে পারেনি অন্যদের ব্যর্থতার মিছিলে।
ব্যাট হাতে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ওপেনার তানজিদ তামিম। বাঁহাতি ওপেনার করেছেন সর্বোচ্চ ৬২ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন জাকের আলী অনিক। শূন্য থেকে শুরু করে লেজের ব্যাটারদের নিয়ে ফিফটি তুলে নেন তিনি। ২৩ রান আসে নাজমুল শান্তর থেকে।
লঙ্কানদের সবচেয়ে সফল বোলার হাসারাঙ্গা ও কামিন্দু মেন্ডিস। হাসারাঙ্গা নিয়েছেন ৪ উইকেট এবং কামিন্দু নিয়েছেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন আসিথা ফের্নান্দো, মাহেশ থিকসানা।
এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রথমটিতে ব্যাটে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। তাসকিন আহমেদ, তানজিম সাকিবদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ রান করে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে জেতেন লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। চতুর্থ ওভারে কোন রান যোগ করার আগেই সাজঘরে ফেরেন পাথুম নিশাঙ্কা। আরেক ওপেনার নিশান মাদুশকাও সাজঘরের পথ ধরেন। দুই ওপেনারকে ফেরান সাকিব ও তাসকিন।
ঝড়ো ইনিংস খেলতে থাকা কুশল মেন্ডিসকে ৪৫ রানে আউট করেন অভিষিক্ত তানভীর। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৬০ রান করেন কুশল মেন্ডিস ও আসালাঙ্কা। এরপর জানিথ লিয়ানেগের সঙ্গে ৬৪ রানের আরেকটি জুটি গড়েন আসালাঙ্কা। এছাড়া মিলান রত্নায়েকের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটিতে অবদান রাখেন লঙ্কান অধিনায়ক। এরপর ভানিডু হাসারাঙ্গাকে নিয়ে ৩৪ রানের জুটি গড়েন আসালাঙ্কা। তাদের বিদায়ে এহসান মালিঙ্গাকে নিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন অধিনায়ক।
অন্যদের আসা যাওয়ার মাঝে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন আসালাঙ্কা। ১১৭ বলে সেঞ্চুরি পাওয়া ইনিংসে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কার মার ছিল। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি আসালাঙ্কার পঞ্চম সেঞ্চুরি। শেষ ওভারে তানজিম সাকিবের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এ বাঁহাতি, করেন ১০৬ রান। তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন ৪টি উইকেট। আরেক পেসার তানজিম সাকিবের ৩ উইকেট ও ১টি করে উইকেট নিয়েছেন তানভীর ইসলাম ও তিন সংস্করণের সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।







