টপঅর্ডারের ব্যর্থতা ধুঁকছিল বাংলাদেশ। ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর জাকের আলি অনিক ও শামীম পাটোয়ারির ৬১ বলে ৮৬ রানের জুটিতে লঙ্কানদের ১৪০ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল টিম টাইগার্স। তবে বোলাররা লড়াইটা জমাতে পারেননি। পাথুম নিশাঙ্কার ফিফটি এবং কামিল মিশারার ৪৬ রানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রানের সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে নেমে ৩২ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে শ্রীলঙ্কা।
রানতাড়ায় নেমে ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। মেন্ডিস ফেরেন ৩ রান করে। দ্বিতীয় উইকেট কামিল মিশারা ও পাথুম নিশাঙ্কা মিলে যোগ করেন ৫২ বলে ৯৫ রান। ১০.৩ ওভারে নিশাঙ্কা ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৪ বলে ৫০ রান করেন।
১২৩ রানে কুশল পেরেরা ফিরে যান ৯ বলে ৯ রান করে। ১২৬ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় লঙ্কানরা। দাসুন শানাকা ফিরে যান ৩ বলে ১ রান করে। পরে চারিথ আশালাঙ্কাকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন মিশারা। ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৩২ বলে ৪৬ রান করেন মিশারা, আশালাঙ্কা করেন ৪ বলে ১০ রান।
বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে মেহেদী ২ উইকেট নেন। মোস্তাফিজ ও তানজিম নেন ১টি করে উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটে নেমে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম দুওভারে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করার আগেই ফিরে যান দুই ওপেনার। ইনিংস শুরুর ওভারে লঙ্কান পেসার নুয়ান থুসারার বল মোকাবেলা বেশ বেগ পাচ্ছিলেন ওপেনার তানজিদ তামিম। প্রথম ৫ বল ডিফেন্স করতে পারলেও ষষ্ঠ বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান টাইগার ওপেনার। মেডেন উইকেট তুলে নেন লঙ্কান পেসার। ৬ বল খেলেন তানজিদ।
দ্বিতীয় ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই আরেক ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। ১.৪ ওভারে দুশমন্থ চামিরার বলে উইকেটের পেছনে কুশল মেন্ডিসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন পারভেজ ইমন। কোন রান না করা ইমন খেলেছেন ৪ বল।
পঞ্চম ওভারে তাওহীদ একবার জীবন পান। তবে এক বলের ব্যবধানে আউট হয়ে যান। ৪.২ ওভারে নুয়ান থুসারার বলে উড়িয়ে মারেন হৃদয়, ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি আশালাঙ্কা। পরের বলে পুল করেন। ডিপস্কয়ার লেগে পাঠিয়ে দুই রান নিয়ে তৃতীয় রানের জন্য দৌড়াতে গিয়ে ননস্ট্রাইকে কামিল মিশারার ডিরেক্ট থ্রোতে আউট হন। ৯ বলে ৮ রান করেন।
সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ভানিডু হাসারাঙ্গার শিকার হন শেখ মেহেদী। এলবিডব্লিও হয়ে ফেরার আগে ৭ বলে ৯ রান করেন। দশম ওভারের পঞ্চম বলে হাসারাঙ্গার বলে রিভার্স সুইপ করতে চেয়েছিলেন লিটন। বল গ্লাভসে লেগে উপরে উঠে যায়। উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিস বল গ্লাভসবন্দি করেন। ৪টি চারে ২৬ বলে ২৮ রান করেন লিটন।
১০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৫৪ রান। এরপর বাকি ১০ ওভার কাটিয়ে দেন শামীম ও জাকের। ১৬ ওভারে ৫ উইকেটে ১০০ করে টাইগাররা। শেষ ৪ ওভারে দুজনে মিলে যোগ করেন আরও ৩৯ রান। তাদের ৬১ বলে ৮৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৯ রান। শামীম ৩ চার ও এক ছক্কায় ৩৪ বলে ৪২ রান করেন। ২ চারে ৩৪ বলে ৪১ রান করেন জাকের।
লঙ্কান বোলারদের মধ্যে হাসারাঙ্গা ২ উইকেট নেন। নুয়ান থুসারা ও দুশমন্থ চামিরা ১টি করে উইকেট নেন।








