সোমবার পর্দা নেমেছে বাংলাদেশে আয়োজিত কাবাডি বিশ্বকাপের। চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে দ্বিতীয় আসরে শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। দুই আসরে শিরোপা জিতল দলটি। আসরে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ভারতের সাঞ্জু দেবী।
আসরে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জপদক জিতেছে বাংলাদেশ। কাবাডি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম পদক এটি। টুর্নামেন্টের সেরা ডিফেন্ডারের পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশের স্মৃতি আক্তার। আসরের সেরা রেইডার হয়েছেন চাইনিজ তাইপের মিম লিন।
আসর সেরা সাঞ্জু দেবী বলেন, ‘এই ম্যাচের জন্য আমরা ১৩ বছর অপেক্ষা করেছিলাম। অবশেষে আমরা ম্যাচ জিতেছি। আমরা গর্বিত খেলোয়াড়, কোচ ও ফেডারেশন নিয়েও। আমরা এক সঙ্গে খেলেছি, এক সঙ্গে জিতেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমি একা নই, পুরো দল খেলেছে। তাই আমি সেরা হয়েছি। আমি এমন পুরস্কার পাবো তা আগে চিন্তা করিনি। ফাইনাল কঠিন ছিল। তবে আমাদের দল উতরে গেছে। দলের প্রধান শক্তি হলো একতা।’
আসরের সেরা রেইডার আই মিন লিনের ভাষায়, ‘ম্যাচটি উপভোগ করেছি, অনেক দিন ধরে অনুশীলনে ছিলাম, সবাইকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে আমি কী করতে পারি। আজকে আমার সেরাটা দিয়েছি। এ পুরস্কার জিতে খুব অবাক হয়েছি। আমি শুধু ভালো খেলতে চেয়েছিলাম, দলকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। এই পুরস্কার সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমরা এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জিততে চাই। এটাই লক্ষ্য।’
‘আমি সম্প্রতি আমার স্নাতক শেষ করেছি। আমি কাবাডিকে আমার পেশা হিসেবে নিতে চাই। কিন্তু তাইপেতে কাবাডির জন্য কোনো স্পন্সর নেই, যারা কাবাডি খেলে তাদের জন্য কোনো চাকরির সুযোগ নেই। বাংলাদেশের আতিথেয়তা আমাকে খুব অবাক করেছে, কারণ আমি খবর থেকে যা শুনেছি আর এখন যা দেখছি, সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে অনেক লোক, আর সবাই বাংলাদেশের জন্য উল্লাস করেছে। আমি আশা করি, একদিন তাইপের মানুষ বাংলাদেশের মানুষদের মতোই মাঠে আমাদের সমর্থন করবে।’
আসরের সেরা ডিফেন্ডার স্মৃতি আক্তার বলেন, ‘এখানে বলার ভাষা নেই কেমন লাগছে। অনেক খুশি লাগছে দেশের মাটিতে এতো বড় অর্জন পেয়েছি। আমরা দেশকে পদক দিতে পেরেছি এর চেয়ে বড় খুশি আর কোথায় নেই। পরের লক্ষ্য এর চেয়ে ভালো কিছু করা। ইনশাল্লাহ আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়বো পরের বিশ্বকাপে।’
‘(ভারত, চাইনিজ তাইপেসহ অন্যদের সাথে) পার্থক্য হলো মূলত টেকনিক, ফিজিকাল ও ফিটনেসে। ওরা যেভাবে সহজেই কাজগুলো করে, আমাদের মধ্যে এসবের ঘাটতি আছে। ফিজিকাল ফিটনেসে ঘাটতি আছে। এগুলো যদি ঠিক করতে পারি তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা জিততে পারবো। আমরা এই টুর্নামেন্টের জন্য ৯ মাসের মতো ক্যাম্প করেছি। সেই তুলনায় অনেক ভালো করেছি। ইরানে গিয়েও ভালো করেছি। নেপালে টেস্ট ম্যাচ খেলে ভালো করেছি। সেই কারণে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে লড়াই করতে পেরেছি।’








