নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মশক্তিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইওএমের অপারেশনস বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে আইওএমের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাটো, বিশেষ উপদেষ্টা প্রিয়া মারওয়াহ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, নৈতিক উপায়ে কর্মী নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ও আইওএমের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং ও কৃষি খাতে গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে মেধা অংশীদারিত্ব (ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ) জোরদার এবং দক্ষ কর্মীদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে আইওএমের সহায়তা প্রয়োজন।
এসময় তিনি অভিবাসী কর্মীদের, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহায়তা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনের বৈশ্বিক চুক্তি (জিসিএম) এর চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জিসিএম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান চুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর ও সমন্বিত কাঠামো হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
সংকটকবলিত বিভিন্ন দেশ থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আইওএমের সহায়তার প্রশংসা করে শামা ওবায়েদ নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, টেকসই পুনর্বাসন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।
বৈঠকে উগোচি ড্যানিয়েলস টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকের শেষে নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের অভিবাসন ও মানবিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।







