এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে গোল করেন মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমা। টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ।
এবারের আসরে শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-১এ ড্রয়ের ধাক্কা বাংলাদেশ সামলে নেয় ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বে পরের ম্যাচেই। আফিদা খন্দকার ও তহুরা খাতুনের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতে গ্রুপসেরা হয়ে ওঠে সেমিফাইনালে। সেরা চারে তহুরা খাতুনের হ্যাটট্রিকে ভুটানকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে মেয়েরা দুর্বার গতিতে উঠে আসে ফাইনালের মঞ্চে। শেষে নেপালকে হারিয়ে হল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন।
খেলার দ্বিতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগ আনে বাংলাদেশ, গোলকিপারের শটে নিয়ন্ত্রণ নিতে যান নেপালের ডিফেন্ডার, পা স্লিপ করলে বল যায় ডি-বক্সের বাইরে দাঁড়ানো তহুরা খাতুনের কাছে। বলে শট নিলে বারে লেগে আবারও তহুরার কাছে যায়, এবার হেডে আসা বল ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার। এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় বাংলাদেশ।
খেলার দশম মিনিটে দারুণ সুযোগ হারায় নেপাল। গোলকিপার রুপনা চাকমার শট মাঝমাঠে নেপালের দুই খেলোয়াড়ের কাছে গেলে পাসে বল পাঠান ডি-বক্সের বাইরে থাকা নেপালের আমিশা কার্কির কাছে। দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় নেপালও।
ম্যাচের ২০ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন নেপালের অমরিত জায়সি। প্রথম ২০ মিনিটে আক্রমণাত্মক খেলার পর কিছুটা ঝিমিয়ে যেতে দেখা যায়। এসময় আমিশা কার্কি আরও একটি সুযোগ পেলেও শিউলি আজিমের দৃঢ়তায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
৩৮ মিনিটে নিজেদের ভুলে গোল হজম করতে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। মাঝমাঠের আগে থেকে ফ্রি-কিক পায় নেপাল, দূরপাল্লার শট বুঝতে না পেরে সামনে এগিয়ে আসলে বল মাথার উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়, বেঁচে যায় বাংলাদেশ। বিরতির আগে আরও কয়েকটি সুযোগ ঠিকঠাক ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণে ওঠে স্বাগতিক নেপাল, মাছুরা পারভীনের দৃঢ় প্রতিরোধে পেরে উঠেনি সেবার। ৫২ মিনিটে গোল করেন মনিকা চাকমা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের পাসে, তহুরা খাতুনের হালকা ছোঁয়ায় রাইট উইং থেকে গোল করেন মনিকা, ১-০তে এগিয়ে যায় লাল-সবুজের দল।
৫৬ মিনিটে বাংলাদেশের এলোমেলো অবস্থায় সমতায় ফেরে নেপাল, আমিশা কার্কির গোলে ১-১ সমতায় ফেরে দলটি। ৬১ মিনিটে ডিফেন্ডার আফিদা খাতুনের ভুলে আবারও গোলের সুযোগ পায় নেপাল, সাবিত্রা ভান্ডারি সেবার গোল করতে পারেননি।
৬৮ মিনিটে মারিয়া মান্দা রাইট উইং থেকে টপকর্নারে শট করেন, নেপাল গোলরক্ষক আনজিলা সুব্বা দারুণ দক্ষতায় সেটি ঠেকিয়ে দেন কর্নারের বিনিময়ে। সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মাঝে শ্রান্তির ধীরতা আসে, সুযোগ কাজে লাগিয়ে টানা আক্রমণে ভয় ধরিয়ে দিতে থাকে নেপাল। পরের মিনিটে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শিউলি আজমের থ্রোতে লেফট উইং থেকে দূরপাল্লার শট নেন ঋতুপর্ণা চাকমা, দর্শনীয় শটের সামনে অনেকটা শূন্যে লাফিয়েও পরাস্ত হন নেপাল গোলরক্ষক আনজিলা, ২-১ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সেই গোলেই শিরোপা নিশ্চিত হয়।







