মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে প্রথমবার ভারতকে ছাড়াই হচ্ছে শিরোপা মঞ্চের লড়াই। ফাইনালে ওঠা দুদলের মধ্যে শেষবিন্দুতে এসে সবচেয়ে বেশি স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে নেপালের। ঘরের মাঠে এবার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না হিমালয় পাদদেশের দলটি। অন্যদিকে, ২০১৬ সালে রানার্সআপ বাংলাদেশ এবার হট ফেভারিট। আসরে একটি গোলও হজম না করা সাবিনা-স্বপ্নারাও চান যেকোনো মূল্যে ট্রফি নিয়ে ফিরতে।
নেপালের দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের ফাইনালে দুদলের সামনেই হাতছানি প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ার। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে ফাইনালে মুখোমুখি হবে নেপাল-বাংলাদেশ।
ঘরের মাঠের ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসের সুর নেপাল কোচ কুমার থাপার কণ্ঠে। চারবার স্বপ্নভঙ্গ হলেও এবার দেশ থেকে ট্রফি নিয়ে যেতে দেবেন না বলে জানিয়ে রাখলেন স্বাগতিক কোচ।
‘দুদলের সামনেই নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। এবার আমরা স্বাগতিক, তাই এই সুযোগটা হারাতে চাই না। ট্রফি ইতিমধ্যে নেপালে আনা হয়েছে এবং এটাকে এখন থেকে আমরা কোথাও নিয়ে যেতে দেব না। ফাইনালে জেতার জন্য যা যা দরকার সবকিছুই আমাদের মধ্যে আছে।’
টুর্নামেন্টজুড়ে সর্বোচ্চ ২০ গোল করা বাংলাদেশের মেয়েদের কোচও কম আত্মবিশ্বাসী নন। গোলাম রব্বানি ছোটনের মতে, শিরোপা লড়াইয়ে তার দলই বেশি শক্তিশালী। মনোবল, একাগ্রতা ও বোঝাপড়া ধরে রাখতে পারলে ফাইনালেও আগের ম্যাচগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে, বিশ্বাস ৫৪ বর্ষী লাল-সবুজ কোচের।
‘আমার মতে, আমার দলটাই বেশি শক্তিশালী। দীর্ঘদিন ধরে তারা একসাথে আছে, একসাথে অনেক পরিশ্রমও করেছে। মেয়েরা যদি নিজেদের মনোবল, একাগ্রতা, ইচ্ছাশক্তি ও নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ধরে রাখতে পারে, তবে ফাইনালেও আগের ম্যাচগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে।’
নেপালকে যদিও কোনোভাবেই ছোট করে দেখছেন না বাঘিনীদের গুরু। স্বাগতিক দর্শকদের সামনে ট্রফি জেতাটা মোটেও সহজ হবে না, মনে করছেন তিনি। ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নেপালের স্ট্রাইকার সাবিত্রা ভান্ডারিরও। দুদলই ভালো খেললে ফাইনাল ম্যাচটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলেছেন ছোটন।
‘নেপাল অনেক শক্তিশালী দল। স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই বেশ কঠিন। আমার বিশ্বাস, ফাইনাল ম্যাচটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তাদের বেশকিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। আগেও বলেছি, সাবিত্রা ভান্ডারি এশিয়ার অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। তবে আমাদের দলেও সাবিনা-মাসুরাদের মতো ফরোয়ার্ড আছে।’
মালদ্বীপকে ৩-০ এবং পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে হারিয়ে এবারের সাফে উড়ন্ত শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতকে প্রথমবারের মতো হারায় লাল-সবুজের মেয়েরা। সেমিফাইনালেও উড়ন্ত ফর্ম ধরে রাখে, সাবিনা-কৃষ্ণারা ভুটানকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে এসেছেন শিরোপার মঞ্চে।
যে ধারায় খেলে নেপাল ফাইনালে উঠেছে তাতে আগেভাগেই কোনো দলকে ফেভারিট বলে দেয়ার উপায় নেই। বাংলাদেশের মতোই পুরো টুর্নামেন্টে একটি গোলও হজম করেনি স্বাগতিকরা। ভারতকে সেমিফাইনালে হারানো নেপালি মেয়েরা আসরে গোল করেছে ১১টি। বাংলাদেশ ২০টি। ফাইনালের লড়াইয়ে কেউ যে কাউকে একবিন্দুও ছাড় দেবে না, সেটা বেশ বলে দেয়া যাচ্ছে।








