মোঃ জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ কাবাডি দলের লেফট কাভার ও সহ-অধিনায়ক। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক এ সদস্য কাবাডি খেলার জন্য সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। খেলেছেন ভারতের প্রো কাবাডির পুনেসহ বিভিন্ন দলে। দীর্ঘদিন পর তাকে জাতীয় দলে ডাকায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ফেডারেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলে যাননি জিয়া। ফুটবলে ব্রাজিল ও নেইমারের ভক্ত জিয়া, বঙ্গবন্ধু কাপ-২০২৪ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে পরপর পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বলেছেন।
বঙ্গবন্ধু কাপে বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের বর্তমান অবস্থান ও লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেমন, কাবাডি বিশ্বকাপ, সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস নিয়ে পরিকল্পনা কী-এসব বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ, ইউরো-২০২৪ ও কোপা আমেরিকার ফুটবল নিয়ে মতামত দিতেও ভোলেননি। তার সাক্ষাৎকারের চুম্বকাংশ তুলে ধরা হল।
টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের অনুভূতি নিয়ে বলেন, ‘গ্রুপপর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমাদের খেলোয়াড়ের সবাইে আনন্দিত। বিগত তিন আসরের কোনোটিতে আমাদের হার নেই। সব খেলোয়াড় দারুণ ছন্দে আছে, পুরো চেষ্টাটা করেছে যেন আমরা কোনো ম্যাচ না হারি। বিগত আসরে যেহেতু হার নেই এবারও আমাদের লক্ষ্য অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’
নেপালের চোখে চোখ রাখাকে কিভাবে দেখছেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেবো। কিন্তু না, প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। কারণ পঁচা শামুকে পা কাটে। সামনে সেমিফাইনাল আছে, পরীক্ষাটা আমাদের জন্য ভালো হল। সামনে ম্যাচগুলোতে কিভাবে খেলতে হবে আমাদের সবাই সেই বিষয়টি উপলদ্ধি করতে পেরেছে।’
বিরতির সময় নেপালকে নিয়ে পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘আমাদের কোচের পরিকল্পনা ছিল, ওদের যেহেতু একজন রেইডার। তো আমাদের পাঁচজন ডিফেন্স করে খেললে সহজে মেরে যেতে পারবে না। আমরা সেই পরিকল্পনা নিয়েই খেলেছি। আমাদের মিজান খেলে পয়েন্ট পাচ্ছে, অন্যরাও পয়েন্ট আনছে। এদিক থেকে আমাদের রেইডার ভালো ছিল।’

পাঁচ ম্যাচে তিনবার ম্যাচসেরা, মিজানের সাফল্যের রহস্য কি? জানতে চাইলে জিয়ার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নাম্বার ওয়ান রেইডার মিজানুর রহমান। কারণ ওর প্রতিদ্বন্দ্বী এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে কেউ নেই। সামনে যারা আসছে তাদের মধ্য থেকে যদি ওর মত কিছু রেইডার বের হয় তাহলে আশা করি ভারত, ইরানের মতো দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবো। আশা করছি, দেশীয় কোচ যেভাবে অনুশীলন করাচ্ছে, সেক্ষেত্রে ভালো হবে। যেমন ইয়াসিন, ও নতুন রেইডার, ভালো করছে। এমন কিছু রেইডার বের হলে সামনে সাফ গেমস, ওয়ার্ল্ড গেমস ইত্যাদিতে আমাদের পদক থাকবে ইনশাআল্লাহ।’
অধিনায়ক আরুদুজ্জামান মুন্সিকে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না কেন?, ‘আরদু ভাই অনেক সিনিয়র একজন খেলোয়াড়, ২০০৯ সালে তিনি জাতীয় দলে ঢুকেছেন। তখন থেকে জাতীয় দলের জন্য খেলে যাচ্ছে। একটা সময় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তার চেয়ে ভালো রেইডার ছিল না। বয়সের একটি ব্যাপার আছে, ৩৮/৩৯ বছরের সাথে সাথে দুইটা অ্যাঙ্কেল, হাঁটুতে, কাঁধে সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে এটাই আমাদের জন্য আলহামদুলিল্লাহ।’
জিয়া নিজের সম্পর্কে বলেন, ‘আমি পরপর দুবার প্রো কাবাডি খেলেছি। ২০১৭ সালে যখন পুনে দলে খেলি তখন প্রায় ১৯-২০ লা বিক্রি হয়েছিলাম। পরের মৌসুমে আমি প্রায় ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিলাম। পরে আমার বাহিনী থেকে আমাকে খেলতে যেতে দেয়নি। তখন আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে খেলতে গিয়েছি, সেখান থেকে এসে খেলাধুলা প্রায় সব বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এরপর ২০২২ সালে শুধু একটি বঙ্গবন্ধু কাপ খেলেছি, তারপর আর কোনো খেলায় অংশ নিতে পারিনি। এবার কোচ, স্যারেরা মনে করেছে আমাকে দলে দরকার। এত দিন পর আবার দলে ফিরে আমি বেশ আনন্দিত, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি চাইব যেহেতু দলে এসেছি, নির্বাচকরা আমাকে সহ-অধিনায়কের পদ দিয়েছে। সুতরাং আমি আশা করব, আরদু ভাইয়ের হাত দিয়ে হোক বা আমার হাত দিয়ে হোক বাংলাদেশের কাপ যেন বাংলাদেশের হাতে থাকে।’

ফেডারেশনের কোনো সীমাবদ্ধতা আছে কি না, ‘এক্ষেত্রে ফেডারেশনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তারা চাই আমরা বাইরের প্রো কাবাডি খেলতে পারলে আমাদের খেলোয়াড়ের উন্নতি অবশ্যই হবে। কারণ সেখানে সব দেশের খেলোয়াড় আসে। কাবাডির এমন কোনো দেশ নেই যারা ওখানে খেলতে আসে না।’
হ্যাটট্রিক শিরোপা ছুঁয়ে দেখা সাবেক অধিনায়ক তুহিন তরফদার দলে নেই কেন? এ প্রসঙ্গে বলেন ‘আরদুজ্জামানের যেমন বয়স, তুহিন তরফদারেরও তেমন বয়স। তুহিন ভাই নিজের চোটের কারণে খেলতে চাইছে না, নিজের থেকে অবসর চাইছে। ফেডারেশনে সমস্যা আছে কি না আমি জানি না। নিজের কিছু কারণে খেলতে আসতে চাইছে না। তিনি নিজেই বলছেন, যেহেতু পরপর তিনটি শিরোপা আমি দিয়েছি, আপাতত আমি আর খেলতে চাই না।’

কাবাডি থেকে কী পাচ্ছেন এমন প্রশ্নে তার উত্তর , ‘হাবিবুর রহমান স্যার, মোজাম্মেল স্যারের কারণে কাবাডি বর্তমানে অন্যপর্যায়ে চলে গেছে। সামনে যদি প্রো কাবাডির আদলে যদি কোনো লিগ চালু হয় তাহলে গ্রাম থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে আসবে। প্রো কাবাডিতে আসলে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে থেকে শুরু করে সিনিয়র পর্যন্ত ওদের টুর্নামেন্ট হয়। ওদের লক্ষ্য প্রো কাবাডি খেলতে পারলে আর্থিক কিছু সুবিধাও পাব। বাংলাদেশে এমন কিছু করতে পারলে দল সামনে অনেক ভালো করব।’
বিদেশে কোনো সিরিজ আছে কি না জানতে চাইলে দিলেন তথ্য। ‘বর্তমানে কোনো সূচি নেই। কোচ বলেছে সামনে বিশ্বকাপ আছে, সাফ গেমস আছে। আমি চাই বর্তমানে যে দল আছে সেটিকে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্বকাপ বা সাফে পাঠানোর জন্য। কাবাডি বিশ্বকাপে যদি আমরা খেলতে পারি, এই মুহুর্তে দলের যে অবস্থা, ব্রোঞ্জ পদক থাকবে।’
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দল কেমন করবে, ‘বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যেভাবে হেরেছে সেটা দুঃখজনক। তাদের কাছে হারবে জনগন সেটা মেনে নিতে পারছে না। ক্রিকেটের বিষয়ে বললে খারাপ দেখায়। তারপরও বলব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো করবে। যেহেতু আমরা জাতীয় দলে খেলি, তারাও খেলে। আমরা চাইব তারা দেশের জন্য ভালো কিছু করুক।’

কোপা-ইউরোতে কাদের সমর্থন করেন, ‘আমি ব্রাজিলের ভক্ত। নেইমার আমার প্রিয় খেলোয়াড়। ইউরোতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইংল্যান্ড দলের অবস্থান ভালো। কোপাতে উরুগুয়ে দলের অবস্থা বর্তমানে ভালো। উরুগুয়ে, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এরা কাপ নেয়ার মত। যেহেতু আমি ব্রাজিলের ভক্ত, আশা করব ব্রাজিল যেন কাপটা পায়।’








