রাজনৈতিক চাপে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তাতে অস্থিরতা বাড়ে দুদেশের ভূরাজনৈতিক সম্পর্কে। এর প্রতিবাদে দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল অন্তবর্তীকালীন সরকার। তবে নতুন সরকার আসার পর বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারের দরজা খুলতে চলেছে, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, আইপিএল সম্প্রচারে আর বাধা নেই।
এক সাক্ষাৎকারে নতুন সরকারের তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘আমাদের কাছে আইপিএল দেখানোর ব্যাপারে কোনো আবেদন নিয়ে কেউ আসেনি৷ খেলাধুলা নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। ফলে বিষয়গুলো বাণিজ্যিকভাবেই আমরা দেখব৷ কোন চ্যানেল যদি আইপিএল দেখানোর জন্য আমাদের কাছে আবেদন করে আমরা ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করবো৷’
ভারতীয় চ্যানেল স্টার স্পোর্টসের মাধ্যমে বাংলাদেশে আইপিএল দেখা গেলে সরকার তাতে বাধা দেবে না জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা কাউকে বাধা দেব না। যদি দেখা যায়, যাবে। আমাদের কেউ যদি দেখানোর আবেদন করে সেটাও ইতিবাচকভাবে আমরা দেখব। জোর করে কিছু করা হবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা বিষয়ে জহির উদ্দিন বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ওই নির্দেশনার এখন কোন দাম নেই। এই সরকার যদি আমাদের বন্ধ রাখতে বলে আমরা বন্ধ রাখব। আগের সরকারের ওই সব নির্দেশনা এখন আর বহাল নেই।’
গত ডিসেম্বরে রাজনৈতিক চাপে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া হয় মোস্তাফিজুর রহমানকে। দুদেশের ভূরাজনৈতিক সম্পর্কে অস্থিরতা বাড়ে। অস্থিরতা ঘিরে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে না হয়ে শ্রীলঙ্কায় যেন হয়, আইসিসিকে সেই অনুরোধ জানাতে বিসিবিকে নির্দেশনা দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ডা. আসিফ নজরুল। পরে বিশ্বকাপে ভেন্যু স্থানান্তরের জন্য আইসিসির কাছে অনুরোধ করে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে বাংলাদেশের সেই অনুরোধ আইসিসি প্রত্যাখ্যান করলে বিশ্বকাপেই অংশগ্রহণ করা হয়নি মিরাজ-লিটনদের।
এর আগে আইপিএল নিলাম থেকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বিসিসিআইয়ের চাপে তাকে ছেড়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, যেখানে একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও ভারতে খেলতে যেতে পারছেন না, সেখানে পুরো টিম ভারতে যাওয়াটা নিরাপদ না।








