গত মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কে অস্থির ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ-চীন সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী শিপিং ও লজিস্টিক পরিষেবাভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল লোডস্টার জানিয়েছে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীন থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি বাংলাদেশে আসে প্রথম জাহাজ। এর আগে বাংলাদেশ-ভারত নৌরুটে জাহাজ চলাচল করলেও বাংলাদেশ-চীন সরাসরি জাহাজ চলাচলের ঘটনা এই প্রথম।
সোমবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩ নম্বর জেটিতে নোঙর করে জাহাজটি। এটি বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দরের শীর্ষস্থানে থাকা পোর্ট অব নিংবো-ঝুশান থেকে ৫৫২টি কনটেইনার নিয়ে এসেছে। চায়না-চিটাগাং এক্সপ্রেস (সিসিই) নামের একটি সার্ভিসের আওতায় চীনের পোর্ট অব নিংবো-ঝুশান থেকে আমদানি করা পণ্য নিয়ে নয়দিনের মাথায় চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে এমভি কোটা আংগুন নামের একটি ভ্যাসেল।
বাংলাদেশ-চীন সরাসরি জাহাজ চলাচলের পর ভারতের সাথে খারাপ রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে চীন থেকে আমদানি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাহাজ চলাচলের ফলে বাংলাদেশ চীন থেকে সরাসরি ২৫ শতাংশ পণ্য আমদানির করতে পারবে, যেমন- পোশাক শিল্পের কাঁচামাল বা মেশিন। এতে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে বলে আশা করছেন কারখানার মালিকরা।
রাজধানীতে অবস্থিত একটি কারখানার মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, কারখানার মালিকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাঁচামাল সরবরাহ করা প্রয়োজন, এটা পণ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়তা করে। পিআইএল-এর এই দ্রুততম (বাংলাদেশ-চীন সরাসরি জাহজ) পরিষেবা কারখানার মালিকদের জন্য খুব সহায়ক হবে।
জানা যায়, বাংলাদেশে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানি খাতের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল চীন থেকে আমদানি করা হয়। আবার বাংলাদেশের চামড়াসহ বেশ কিছু পণ্য চীনে রপ্তানি হয়। আগে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা কলম্বো হয়েই চীন-চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য আনা হত। মাদার ভ্যাসেলে থেকে ফিডার ভ্যাসেল ব্যবহার ও অন্য বন্দরে হয়ে আসার কারণে ট্রান্সশিপমেন্টে সময় ও ব্যয় দুটিই বেশি হত।
তাই চীন-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি জাহাজ পরিচালনা করাটা বেশ সম্ভাবনাময় একটি বিষয়। ছয়টি প্রধান শিপিং লাইনে এখন প্রতি সপ্তাহে চীন-চট্টগ্রাম রুটে ১০টি জাহাজ চলাচল করবে।







