ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ব্যাটারদের বিবর্ণতায় হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, টি-টুয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু একই চিত্র দেখা গেল গোয়ালিয়রে। ব্যাটারদের বিবর্ণ দিনে সংগ্রহ চ্যালেঞ্জিং হয়নি সফরকারীদের। হেসেখেলেই লক্ষ্য পার করেছে ভারত।
গোয়ালিয়রে শ্রীমন্ত মাধবরাও সিন্ধিয়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। ঘরের মাঠে টসে জিতে টাইগারদের আগে ব্যাটে পাঠান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ১৯.৫ ওভার ব্যাট করে ১২৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ১১.৫ ওভারে জয়ের বন্দরে নোঙর করে টি-টুয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি।
সহজ লক্ষ্য সামনে রেখে ভারতকে উড়ন্ত শুরু এনে দেনে অভিষেক শর্মা ও সাঞ্জু স্যামসন। তাদের অনুকরণ করেন বাকিরাও। বাংলাদেশের সাফল্য কেবল ৩ উইকেট। অভিষেক শর্মাকে সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট করে ফেরান তাওহীদ হৃদয়। ৭ বলে ১৬ রান করেন তিনি।

৬৫ রানে সূর্যকুমার যাদবের উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ। পঞ্চম ওভারে তাসকিন আহমেদকে একটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন সূর্যকুমার যাদব। ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্রিজে এসে মোস্তাফিজকেও ছক্কা হাঁকান। তৃতীয় বলেও ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন। ডিপ স্কয়ার লেগে থাকা জাকের আলির হাতে ধরা পড়েন। দুই চার ও তিন ছক্কায় ১৪ বলে ২৯ রান করে থামেন ভারত অধিনায়ক।
তৃতীয় সাফল্য আসে মেহেদী হাসান মিরাজের হাত ধরে। ৭.৫ ওভারে ডিপ মিডউইকেটের উপর দিয়ে বল বাউন্ডারি লাইন পার করতে চেয়েছিলেন স্যামসন। তবে ধরা পড়েন রিশাদের হাতে। ছয়টি চারে ১৯ বলে ২৯ রান করেন তিনি।
পরে নীতিশ কুমার রেড্ডি ও হার্দিক পান্ডিয়া ভারতের জয় নিশ্চিত করেন। হার্দিক ২৬ বলে ৩৯ রানে এবং নিতিশ ১৫ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান।
এরআগে ব্যাটে নেমে ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শুরুতে ধুঁকতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। লিটন দাস ৪ ও পারভেজ হোসেন ইমন ৮ রান করে ফেরেন। আশার আলো দেখিয়েছেন ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। একবার জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি।
৪.২ ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর বলে স্কয়ার লেগে উড়িয়ে মেরে তিন রানে জীবন পেয়েছিলেন হৃদয়। ৬.৪ ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে লংঅনে ক্যাচ দেন বরুণের হাতে। ১৮ বলে ১২ রান করেন হৃদয়। পরে ব্যাটে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৭.২ ওভারে ক্যাচ দেন ওয়াশিংটন সুন্দরের হাতে। দুই বলে ১ রান করে অভিষিক্ত মায়াঙ্ক যাদবের প্রথম শিকার হন তিনি।
৫৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় টিম টাইগার্স। নবম ওভারের শেষ বলে নীতিশ কুমারের বলে মিড অনের উপর দিয়ে বড় ছক্কা হাঁকান জাকের আলি অনিক। পরের ওভারে এসেই বরুণের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। ৬ বলে ৮ রান করেন।

নাজমুল হোসেন শান্ত ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মিরাজকে নিয়ে টেনে নেন ইনিংস। ১২তম ওভারে ফিরে যান। বলের ফ্লাইট বুঝতে না পেরে ওয়াশিংটন সুন্দরের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বোকা বনে যান। দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে কাটিয়ে থিতু হলেও ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন। একটি করে চার ও ছক্কায় ২৫ বলে ২৭ রান করেন টাইগার অধিনায়ক।
আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝেও রিশাদ হোসেন আশা দেখিয়েছিলেন ভালো কিছুর। চার-ছক্কায় ১৩তম ওভারে ১৫ রান তুলে স্লগে ভালোই করছিলেন। কিন্তু বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে ফেরায় মিরাজের সামনে ২০ ওভার টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। রিশাদ ৫ বলে করেন ১১ রান।

তাসকিন আহমেদকে নিয়ে কাজটা ভালোই করছিলেন মিরাজ। দলকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে সঙ্গীকে হারান অফস্পিনিং অলরাউন্ডার। ১৩ বলে ১২ করে রান আউটের শিকার হন তাসকিন। শরিফুল ইসলাম (০) এসেই হন বোল্ড। ৫ বলে ১ রান করে আর্শদীপ সিংয়ের তৃতীয় শিকারে পরিনত হন মোস্তাফিজুর রহমান। ১ বল আগেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। মিরাজ ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা মিরাজ ৩২ বলের ইনিংসে মারেন তিন বাউন্ডারি।
ভারতের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন আর্শদ্বীপ সিং ও বরুণ চক্রবর্তী। হার্দিক পান্ডিয়া, মায়াঙ্ক যাদব ও ওয়াশিংটন সুন্দর নেন একটি করে উইকেট।








