বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবেশী দুই দেশের জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশের প্রিয় মাছ ইলিশ। প্রতিবছর বাংলাদেশের সীমান্ত পার করে ভারতে যায় বাংলাদেশের ইলিশ। বছরজুড়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বাংলাদেশের ইলিশের জন্য মুখিয়ে থাকেন। তবে এবার কতটা ইলিশ ভারতে যাবে, আদৌ যাবে কিনা তা নিয়ে এখনও কোন নিশ্চয়তা মেলেনি।
আজ (১১ সেপ্টেম্বর) বুধবার একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইলিশ পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ-ভারত কূটনীতিক সম্পর্কে।
বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তারের মতে, ইলিশ মাছ যেন বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে আরও সহজলভ্য থাকে এটি তার প্রচেষ্টা। অনেক মাছ বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে (নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও)। এবার আমরা ইলিশকে সীমান্ত পার হতে দেব না।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা ও আসামেও যায় বাংলাদেশের ইলিশ। আর বাংলাদেশের ইলিশ হলে সেখানকার পূজা একেবারে জমে যায়। গত বছরও ১৩০০ মেট্রিক টন ইলিশ গিয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। তবে এবার কতটা ইলিশ ভারতে যাবে, আদৌ যাবে কিনা তা নিয়ে এখনও কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি।
অনেকের মতে অন্তর্বর্তী সরকার আসার আগে থেকেই বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বাতাস বইতে শুরু করেছিল। তবে এবার সেই বাতাস কি ইলিশের ওপরেও পড়বে? এসব নিয়ে আলোচনা একেবারে তুঙ্গে।
ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ কিন্তু এর দামটা বেশি। ইলিশ শুধুমাত্র ধনী ও মধ্যবিত্তদের জন্য সাশ্রয়ী, নিম্নবিত্তদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এই প্রেক্ষাপটে ফরিদা আক্তার বলেন, আগের সরকার দুর্গাপূজার সময় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিত। তারা এটাকে উপহার বলত। এইবার আমি মনে করি না আমাদের উপহার দেওয়ার দরকার কারণ ভারতে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি করার অনুমতি দেওয়া হলে আমাদের লোকেরা মাছ খেতে পারবে না।
এই অবস্থানটি ভারতের সাথে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিখ্যাত ‘ইলিশ কূটনীতি’ থেকে একটি স্পষ্ট প্রস্থান চিহ্নিত করছে। যেখানে তিনি প্রায়শই উৎসবের মৌসুমে মাছের চালান ভারতে পরিবহনের অনুমতি দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা একাধিকবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে ইলিশ পাঠিয়েছেন।
নতুন অন্তর্বর্তী সরকার ইলিশ সরবরাহের অনুমতি দিয়ে ভারতের প্রতি সদিচ্ছা প্রদর্শন করতে পারত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, অন্য সব উপায়ে আমাদের শুভেচ্ছা থাকবে। তারা আমাদের বন্ধু। কিন্তু আমাদের জনগণকে বঞ্চিত করে কিছু করা উচিত নয়। শুভেচ্ছার প্রশ্ন এর থেকে আলাদা।
বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সংবাদের প্রেক্ষিতে বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম বেড়েছে। বাজারে একটি দেড় কেজি ইলিশের দাম প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা, ১ কেজি ২০০ গ্রামের মাছ ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং এক কেজি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় এই মাছের দাম দেড়শ থেকে ২০০ টাকা বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর মৎস্যজীবীরা মাছের দাম বৃদ্ধির জন্য খারাপ আবহাওয়াকে দায়ী করছেন। হোসেন মিয়া নামে একজন জেলে বলেন, গত তিন মাসে আমরা পাঁচবার সমুদ্রে যাওয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু রুক্ষ আবহাওয়ার কারণে ফিরে যেতে হয়েছে।
দাম যেমনই হোক, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দুই পারের বাঙালিদের কাছে ইলিশের রয়েছে বিশেষ কদর। সরিষা বাটা দিয়ে রান্নাই হোক, ভাপা ইলিশই হোক বা মশলার হালকা প্রলেপ দিয়ে ভাজা তাই এর অভাব অনেককেই হতাশ করবে।







