যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবন। মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর সকালে মান্যবর রাষ্ট্রদূত ড. এম. মাহফুজুল হক দূতাবাসে কর্মরত সকলের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন।
মঙ্গলবার বিকেলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে কমিউনিটির ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র এবং সাংবাদিকসহ পর্তুগালে বসবাসরত সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও মাননীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কর্তৃক প্রদত্ত বাণীসমূহ পাঠ করা হয়।
আলোচনা পর্বে উপস্থিত প্রবাসীদের মধ্য থেকে প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, ছাত্র ও সাংবাদিকগণ বক্তব্য রাখেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত স্বৈরাচারমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর আলোকপাত করেন।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব ড. এম. মাহফুজুল হক মহোদয় তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা যে একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত দেশ পেয়েছি, সেই দেশকে একটি পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এবং শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সকল বিদ্বেষ-বিভেদ, হিংসা-প্রতিহিংসা ভুলে গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।








