বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অংশের অন্যতম একটি মূল অঞ্চল। আর একারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক ইতিহাস বলে, বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক কার্যকলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশি অংশ। কারণ এটি মালাক্কা এবং হরমুজ সংলগ্ন প্রধান বাণিজ্য পথগুলোকে যুক্ত করে।
ইউএস নাভাল ইনস্টিটিউট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারত ও মিয়ানমার প্রতিবেশী হওয়ায় বাংলাদেশের নৌবাহিনীর জন্য নিজ সীমানায় নিরাপত্তা বজায় রাখা একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশে সমুদ্র উপকূলে একটি জাহাজ নির্মাণ শিল্প রয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী খুব সহজে জাহাজ সংক্রান্ত মেরামত সুবিধা পাবে।
কৌশলগত অবস্থান
বাংলাদেশের প্রাথমিক নৌ ঘাঁটি মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল এবং চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক সীমানা ভেদ করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাথে সহযোগিতা করে, মার্কিন নৌবাহিনী চীনা প্রকল্পগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য সেই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে আগ্রহী।
বাংলাদেশ সম্প্রতি তার নীতির রূপরেখায় একটি উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক চিত্র তুলে ধরেছে। বাংলাদেশের নীতিটিতে প্রকাশ পায় “সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বিদ্বেষ নয়।” বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী
বাংলাদেশের নীতির রূপরেখা পরিচালনার জন্য একটি মাঝারি শক্তিশালী নৌবাহিনী এবং নৌ ঘাঁটি রয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের উন্নয়ন করার মধ্য দিয়ে মার্কিন ও ইউরোপীয় সরঞ্জাম ক্রয় করেছে, যা বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন থেকে সাবমেরিন কিনে বাংলাদেশ তার সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন পায়। যদিও সাবমেরিনগুলোর নকশাগুলি পুরানো হলেও প্রশিক্ষণ, ক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষার জন্য এগুলো কার্যকর। বাংলাদেশে সাবমেরিন বার্থিং এবং এভিয়েশন সুবিধাসহ একটি নৌ ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রসদ এবং নিরাপদ আশ্রয়
যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের সময় বাংলাদেশের নৌ ঘাঁটি হতে পারে রসদ সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘাঁটি নেই। যদি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঘাঁটি নির্মাণ করতে পারে তাহলে ভারত মহাসাগরে বিস্তার লাভ করতে সুবিধা পাবে যুক্তরাষ্ট্র।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিশ্বস্ত বন্ধু দেশ জাপানের সহায়তায় বাংলাদেশের বর্তমান কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করে। সেই থেকে আশা করা যাচ্ছে জাপান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। যেন ভবিষ্যতে যেকোনো যুদ্ধের সময় মাতারবাড়ি গভীর-সমুদ্র বন্দরকে নৌ-অপারেশন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।







