এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি নাম পিটার জেমস বাটলার। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডে খেলা তারকা বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে এখন। তার অধীনে মেয়েদের ফুটবলে তথা বাংলাদেশের ফুটবলে এপর্যন্ত সর্বোচ্চ সাফল্য এসেছে। তার অধীনে বাংলাদেশ জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দল চারটি আসরে অংশগ্রহণ করে সবেই দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে। এত সাফল্যের পেছনে কোন রহস্য কাজ করছে, মাঠে তিনি জাতীয় দলকে কোন ধরন বা ফর্মেশনে খেলাচ্ছেন? দেখে নেয়া যাক কোন ফর্মেশন বা ধরনে খেলিয়ে জাতীয় দলে এমন সাফল্য পাচ্ছেন বাটলার।
ইংল্যান্ডের সাবেক খেলোয়াড় বাটলার মূলত আগে ঘর সামলাতে পছন্দ করেন, তারপর আক্রমণে প্রতিপক্ষ রক্ষণ তছনছ করে দিতে পছন্দ করেন। এজন্য তার পছন্দের ফর্মেশন ৪-৩-৩। বাংলাদেশের খেলার ক্ষেত্রেও তিনি একই ফর্মেশন অনুসরণ করছেন? না, বাংলাদেশকে তিনি একটু ভিন্ন ফর্মেশনে খেলাচ্ছেন।
বাংলাদেশকে বাটলার সাধারণত ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলাচ্ছেন। এই ফর্মেশনে একটি শক্তিশালী রক্ষণভাগ, দুটি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, তিনজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এবং একজন স্ট্রাইকারকে সামনে রেখে খেলান। তার এ ফর্মেশন মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে আক্রমণ ও রক্ষণ উভয় দিকেই ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বাটলার ফর্মেশনটি ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক উভয় দিকেই ভালো ফলাফল পাচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে একটি প্রতিযোগিতামূলক এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বাটলারের বাংলাদেশ ফুটবলে যুক্ত হওয়া ২০২৩ সালের শেষদিকে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেয়েদের যুব দলের। মেয়েদের বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন মাত্র ৫৪ দিন। এরপর তাকে বাংলাদেশ একাডেমি কোচের দায়িত্ব দেয়া হয়। একাডেমিতে কাজ করেন আগের চেয়েও কম, মাত্র ৪৩ দিন। ২০২৪ সালের মার্চে তিনি বাংলাদেশ মেয়েদের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন।

জাতীয় দলের দায়িত্ব নেয়া বাটলারের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ছিল মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল আসর। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করেন তিনি, ধরে রাখেন আসরের শিরোপা। টানা দ্বিতীয়বার মেয়েদের সাফ শিরোপা আসে বাংলাদেশে, প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই সাফল্য পান তিনি। তার আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশকে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন গোলাম রব্বানি ছোটন।
এরপর ২০২৫ সালের জুলাইতে তার অধীনে বাছাইয়ে অপরাজিত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় হতে চলা এএফসি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে কোয়ালিফাই করে বাংলাদেশ। মিয়ানমারে বাছাইপর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেখানেই থেমে থাকেনি বাংলাদেশ নারী দলের সাফল্য। জুলাইতেই বাংলাদেশে বসা মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় আফঈদা খন্দকারের দল। আগস্টে লাওসে মেয়েদের এএফসি এশিয়ান কাপ অনূর্ধ্ব-২০ আসরের বাছাইপর্ব খেলতে গিয়েও মূলপর্বে কোয়ালিফাই করেছে বাংলাদেশ, খেলবে থাইল্যান্ডে হতে চলা আসরে।

বাটলারের ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর ফলাফল দেখে বোঝা যায় কতটুকু সফল জাতীয় দল। ২০২৪ সালে সাফের মূল আসরের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিলেন ঋতুপর্ণা-মনিকা চাকমারা। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে হারান ৩-১ গোলে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ভুটানকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারায় সাবিনা খাতুনের দল। ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। আসরে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে মোট ১৩ গোল দিয়ে হজম করে মাত্র ৩টি।
সাফের পর এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের আসর। ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে ৭-০ গোলে, দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মিয়ানমারকে ২-১ গোলে এবং শেষ ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানকে ৭-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ান কাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেয়। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাটলারের শিষ্যরা। আসরে বাটলারের শিষ্যরা করেছিলেন ১৬ গোল, হজম করেছিলেন মাত্র একটি গোল।

এরপর সাফ অনূর্ধ্ব-২০ মেয়েদের দল নিয়ে বাংলাদেশে হওয়া আসরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারান ৯-১ গোলে। পরের ম্যাচে নেপালকে ৩-২ গোলে এবং ভুটানকে ৪-১ গোলে হারান। ফিরতি ম্যাচে ভুটানকে ৩-০ গোলে, শ্রীলঙ্কাকে ৫-০ গোলে এবং নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। আসরে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে মোট ২৮ গোল দেয়, হজম করে ৪ গোল।
পরে এএফসি এশিয়ান কাপ অনূর্ধ্ব-২০ আসরে প্রথম ম্যাচে লাওসকে ৩-১ গোলে, পরের ম্যাচে পূর্ব তিমুরকে ৮-০ গোলে হারালেও সাউথ কোরিয়ার কাছে ৬-১ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। হেরেও রানার্সআপের সেরা তিনের মধ্যে থেকে মূলপর্বে ওঠে বাংলাদেশ। এখানে ১২ গোল দিয়ে হজম করে ৭টি। চার ইভেন্টে প্রথম হারের মুখ দেখেন বাটলার।








