বাংলাদেশে ব্যবসা ও মানবাধিকার বিষয়ক সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালা ব্যবসায় মানবাধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) অনুষ্ঠিত সংলাপে সরকার ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ছাড়াও ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ, শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সুইডেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসুচি (ইউএনডিপি) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সপ্তাহব্যপী বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে এই আলোচনা ও সংলাপের আয়োজন করে।
ব্যবসা সংক্রান্ত জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের (ইউএনজিপি) আলোকে একটি জাতীয় কৌশল প্রণয়নে এই সংলাপে বিভিন্ন অংশীজনেরা গুরূত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন। যেহেতু বাংলাদেশ ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের তালিকা থেকে মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে তাই ব্যবসাক্ষেত্রে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার কোন বিকল্প নেই।
ইউএন ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান পিচামন ইউপেনতঙ্গ প্রধান আলোচক হিসেবে বলেন, ইউএনজিপি অনুসরণ করার মাধ্যমে ব্যবসাক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে সরকার আরো বেশি করে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন বিডা’র (বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেপোলাপমেন্ট অথরিটি) ডিরেক্টর মোহাম্মদ আরিফুল হক। তিনি বলেন, কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌছাবে এবং বাংলাদেশ ব্যবসার ক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার এ ব্যাপারে অনেক নীতি-কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে। ব্যবসা সংক্রান্ত জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র তথা ইউএনজিপি অনুসরণ করার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ব্যবসা প্রসারের মাধ্যমে আমরা উন্নয়নশীল দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারব।
সংলাপে সূচনা বক্তব্যে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার বলেন, ব্যবসায় মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করা উন্নয়নশীল দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে ব্যবসা সংক্রান্ত জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র তথা ইউএনজিপি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়।
তিনি আরো বলেন, শুধু সরকারই নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোকেও ইউএনজিপি বাস্তবায়নে ইউএনডিপি প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদান করতে প্রস্তুত আছে।
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তোওমো পুতিয়েনেন বলেন, সরকার, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা যৌথভাবে বাংলাদেশে শ্রম আইন সংস্কার, শোভন কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং দায়িত্বশীল ব্যবসা প্রসারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সবার সাথে মিলে আইএলও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
অনেক ইউরোপীয় দেশ ব্যবসায় মানবাধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত বাধ্যতামুলক নীতিমালা গ্রহণ করেছে যার ফলে ইউরোপের বাজারে রপ্তানির জন্য ব্যবসা সমূহকে তাদের কার্যক্রম সর্বক্ষেত্রে মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয় যেমন- শ্রম অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানির তিন-চতুর্থাংশ ইউরোপে যাওয়ার কারণে দায়িত্বশীল ব্যবসার বিষয়টি অতি গুরূত্বপূর্ণ ।
প্রায় ২৫০ এর মত অংশগ্রহণকারী তাদের মুল্যবান সুপারিশ প্রদান করেন যা ব্যবসাক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নীতিপ্রণেতাদের সাহায্য করবে ।







