বাংলাদেশ ব্যাংক তার মতিঝিল অফিস সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রি, ছেঁড়াফাটা নোট বদল এবং অটোমেটেড চালান গ্রহণের মতো গ্রাহকসেবা বন্ধ করে দিচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য শাখাতেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এসব সেবা দেওয়ার মূল দায়িত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও পোস্ট অফিসের। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তদারকি আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে নিরাপত্তা ও নির্ভরতার কারণে প্রতিদিনই ভিড় থাকে। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি লেনদেন হয় মতিঝিল অফিসেই।
সম্প্রতি ওই অফিসে সার্ভার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং আরও ৫০ লাখ টাকা নেওয়ার চেষ্টা ধরা পড়ে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাটি নয়; নীতিগত কারণেই গ্রাহকসেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মতিঝিলে এখন ২৮টি কাউন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি রাখা হবে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ লেনদেনের জন্য। গ্রাহকদের জন্য সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড, ছেঁড়াফাটা নোট বদল ও ট্রেজারি চালান- প্রতিটি সেবায় কেবল একটি করে কাউন্টার চালু থাকবে।
চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া ও বরিশাল অফিসেও পর্যায়ক্রমে একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জুনে মতিঝিল অফিস পরিদর্শনে গিয়ে ক্যাশ বিভাগ আধুনিকায়নের নির্দেশনা দেন। পরে গঠিত কমিটির সুপারিশে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের কোথাও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি সাধারণ মানুষকে কাউন্টারে সেবা দেয় না। নিরাপত্তার স্বার্থেই বাংলাদেশ ব্যাংকও সেই পথে হাঁটছে। সঞ্চয়পত্রের সুদ–আসল পরিশোধের জন্য ইএফটিএন ব্যবস্থা আগের মতোই চালু থাকবে। কাউন্টারে কর্মরতদেরও অন্য বিভাগে সমন্বয় করে দেওয়া হবে।








