প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে আস্থা অর্জন করেছেন নির্বাচকদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে ফিরে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে রাঙিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারসেরা ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিমের ফিফটিতে অজিদের সামনে ২৮৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে টিম টাইগার্স।
মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ডাচ-বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান তুলেছে মিরাজের দল।
শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ। ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায়। নাথান এলিসের বলে মার্নাশ লাবুশেনের হাতে ক্যাচ দেন সাইফ হাসান। ১ চারে ৫ বলে ৫ রান করে যান টাইগার ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে চাপ কাটিয়ে তোলেন তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৯১ বলে ৯৬ রান। ১৬.৩ ওভারে ১০৬ রানের সময় তানজিদ ফিরলে জুটি ভাঙে। নাথান এলিসের বলে মিডঅনে জাভিয়ের ব্রেটলেটের হাতে ধরা পড়েন। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করে যান তানজিদ।
নামের সাথে সুবিচার করতে পারেননি চারে নামা লিটন দাস। ২১.৪ ওভারে ১২৫ রানের সময় লিটনের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৯ বলে ৭ রান করে যান তিনি।
২৫.৩ ওভারে ১৪০ রানের সময় শান্ত আউট হন। ম্যাট রেনশর বলে লংঅফে কুপার কনোলির হাতে ক্যাচ দেন। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রান করে যান তিনি। পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গী করে ৯০ বলে ৭৫ রান যোগ করেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৪০.৩ ওভারে দলীয় ২১৫ রানে হৃদয় ফেরেন। ১ চারে ৫১ বলে ৩১ রান করে ব্রেটলেটের বলে এলিসের ক্যাচ হন।
সাতে নেমে বেশ ধুঁকেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্বস্তি ফেরার আগেই আউট হন। লিয়াম স্কটের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। আম্পায়ার সাড়া দিলে রিভিউ নেন অধিনায়ক, লাভ হয়নি। ১২ বলে ৩ রান করে ফেরেন। তার আগে অবশ্য ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন মোসাদ্দেক। টাইগার অলরাউন্ডারের চতুর্থ ওয়ানডে ফিফটি এটি।
২১৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর তানভীরকে নিয়ে ২০ রান যোগ করেন মোসাদ্দেক। ৪৪.৩ ওভারে দলীয় ২৩৯ রানে তানভীর এলিসের তৃতীয় শিকার হন। ৭ বলে ৫ রান করে। অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। শেষ বলে তাসকিন আউট হন। বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৮৪ রান।
৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭০ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক। তার ক্যারিয়ারসেরা ব্যাটিং। আগে অপরাজিত ৫২ রান ছিল সর্বোচ্চ। তাসকিন ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রান করেন।
অস্ট্রেলিয়ার নাথান এলিস ৩ উইকেট নেন। ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট নেন ২টি করে উইকেট।







