এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ব্যাটাররা কাজটা ঠিকঠাক করেছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামনে দুই শতাধিক রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে এসেছিলেন। বোলাররা সেরাটা দিতে ব্যর্থ হলেন। অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২ উইকেটে হার দেখেছে বাংলাদেশ। সিরিজে সমতার পাশাপাশি টি-টুয়েন্টিতে প্রথমবার দুইশ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়ল আরব আমিরাত। আমিরাতের মাটিতে টি-টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানতাড়ার রেকর্ডও এটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে সর্বোচ্চ ১৮৩ রান তাড়া করে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা, ২০২২ এশিয়া কাপে।
জিততে শেষ দুই ওভারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দরকার ছিল ২৯ রান। ১৯তম ওভারে শরিফুল ইসলাম খরচ করেন ১৭ রান। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১২ রান। তানজিম সাকিবের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক লিটন দাস। প্রথম ডেলিভারিতেই তিনি দিয়ে বসেন ওয়াইড। প্রথম বলে ১ রান খরচ করলেও দ্বিতীয় বলে ছক্কা হজম করেন। তৃতীয় বলে অবশ্য উইকেট তুলে নেন। চতুর্থ বলে ১ রান দেন। পঞ্চম বলে নো করে বসেন, ১ রান আদায় করে নেয় আমিরাত। দুই বলে দুই রান দরকার যখন, হায়দার আলি ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে পাঠিয়ে প্রথম রান আদায় করে নেন। দ্বিতীয় রানের জন্যও দৌড় শুরু করেন। তার আগে বল নিয়ন্ত্রণে নেন তাওহীদ হৃদয়। তবে বল ছাড়তে দেরি করেন। তাতে দুই রান পেয়ে জয়োল্লাসে মাতে আরব আমিরাত।
শারজায় টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ২০৫ রানের সংগ্রহ গড়ে লিটন দাসের দল। জবাবে নেমে ১ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় আমিরাত।
বাংলাদেশ বোলাদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন তানজিম সাকিব। ৩.৫ ওভার বল করে দিয়েছেন ৫৫ রান, এক উইকেট নেন। নাহিদ রানা ২ উইকেট নিলেও ৪ ওভারে ৫০ রান খরচ করেন। তানভীর ইসলাম ৪ ওভারে খরচ করেন ৩৭ রান, নেন ১ উইকেট। শরিফুল ৩৪ রানে এবং রিশাদ ২৮ রানে দুটি করে উইকেট নেন।
আরব আমিরাতকে জয়ের ভিত গড়ে দেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৪২ বলে ৮২ রান করেন তিনি। মোহাম্মদ যোহাইব ৩৪ বলে ৩৮ রান করেন। আসিফ খান ১৯, হায়দার আলি ১৫, আলিশানা সারাফু ১৩ এবং ধ্রুভ পারাশার ১১ রান করেন।
এর আগে ব্যাটে নেমে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও লিটন দাস। উদ্বোধনীতে ৯০ রান তোলেন দুজনে। ৯.১ ওভারে তানজিদ ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৩ বলে ৫৯ রান করেন টাইগার ওপেনার। নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আরও ৪৫ রান যোগ করেন লিটন দাস।
১২.৩ ওভারে লিটন ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। টাইগার অধিনায়ক ৩টি চার ও এক ছক্কায় ৩২ বলে ৪০ রান করেন। তৃতীয় উইকেটে শান্ত ও তাওহীদ হৃদয় মিলে যোগ করেন ৩৮ রান। দুটি চার ও এক ছক্কায় ১৯ বলে ২৭ রান করে শান্ত ফিরে যান।
১৬৩ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর হৃদয় ও জাকের আলি জুটি যোগ করেন ৩৪ রান। ১৮.৪ ওভারে জাকের ফিরে যান দলীয় ১৯৭ রানে। একটি চার ও দুই ছক্কায় ৬ বলে ১৮ রান করেন জাকের। ১৯.১ ওভারে দলীয় ২০১ রানে হৃদয়ের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তিনটি চার ও দুই ছক্কায় ২৪ বলে ৪৫ রান করেন তিনি।
পরে শামীম পাটোয়ারী ও রিশাদ মিলে যোগ করেন আর ৪ রান। শামীম ৬ রানে এবং রিশাদ ২ রানে অপরাজিত থাকেন।
আমিরাতের হয়ে মোহাম্মদ জাওয়াদউল্লাহ তিন উইকেট নেন। সঘির খান নেন দুই উইকেট।








