সাদামাটা বোলিংয়ের পর ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের কাছে ১৪২ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে সফরকারী দলটি। রানের দিক থেকে আফগানদের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরাজয়।
চট্টগ্রামে টস হেরে আগে ব্যাটে নেমে গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ৩৩১ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। জবাবে নেমে ৪৩.২ ওভারে ১৮৯ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। চোট পাওয়ায় ব্যাটে নামতে পারেননি ইবাদত হোসেন।
আফগানদের ওপেনিং জুটির রানই করতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ওপেনার গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান মিলে করেছিলেন রেকর্ড ২৫৬ রান। ম্যাচে একমাত্র অর্জন ক্যারিয়ারের ২৫০তম ওয়ানডেতে মুশফিকুর রহিমের ফিফটি। তিনি ৮৫ বলে ৬৯ রান করে ফেরেন ফজলহক ফারুকির শেষ শিকার হয়ে।
আগে ব্যাটে নেমে সফরকারীদের দুই ওপেনারই করেছেন সেঞ্চুরি। রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ১২৫ বলে ১৪৫ রানের ইনিংস উপহার দিয়ে আউট হন। তার বিদায়ে ভাঙে আফগানদের ওয়ানডে ইতিহাসের ২৫৬ রানের রেকর্ড জুটি। দলীয় সংগ্রহ আড়াইশ পেরিয়ে যাওয়ার পর সাকিব আল হাসানের ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন গুরবাজ। ১৩ চার ও ৮ ছয়ে দেড়শ কাছে গিয়ে থামেন। আউট হওয়ার আগে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলে যান।
প্রথম উইকেট হারানোর পর আফগানিস্তান দ্বিতীয় উইকেট হারায় খুব দ্রুত। ২ রান করে ইবাদত হোসেনের বলে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রহমত শাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হন আফগান অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শাহিদী। তিনিও করেন ২ রান। রেকর্ড জুটি ভাঙার পর দ্রুত তিন উইকেট তুলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ।
দলীয় তিনশ ছোঁয়ার আগে আউট হন ইব্রাহিম। ১১৯ বলে ৯টি চার ও একটি ছয়ে ১০০ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন তিনি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় আফগানিস্তান। মোহাম্মদ নবীর ১৫ বলে অপরাজিত ২৫ রানের ইনিংসে দলটি খুঁজে নেয় বড় সংগ্রহের ঠিকানা।
মোস্তাফিজ, সাকিব, হাসান ও মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট নিয়েছেন ইবাদত হোসেন। নিজের শেষ ওভারে হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন টাইগার পেসার।
জবাবে নেমে ফজলহক ফারুকি ও মুজিবুর রহমানের শিকার হয়ে শুরুতেই ফেরেন তিন টাইগার ব্যাটার। ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বলে আসেন ফারুকি। তার উপর চড়াও হন লিটন। টানা দুই বলে চার মারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরের বলে ব্যাকফুটে গিয়ে ভুল করেন। ফারুকির আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার গাজী সোহেল। পরে রিভিউ নিয়ে পার পেয়ে যান। এরপর পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে মোহাম্মদ নবীর হাতে ক্যাচ দিয়ে শিকার হন ফারুকির। ১৫ বলে ১৩ রান করে যান।
পরের ওভারেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৫.৫ ওভারে মুজিবের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন শান্ত। ৫ বলে ১ রান করে। নবম ওভারের প্রথম বলে আবারও আঘাত হানেন ফারুকি। শর্ট লেংথের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন নাঈম। ২১ বলে ৯ রান করেন দীর্ঘদিন পর ফেরা ওপেনার।
মাত্র ২৫ রানে ৩ ব্যাটারকে হারানোর পর ধীরগতিতে রান যোগ করতে থাকেন সাকিব ও হৃদয়। গড়েন ৪০ রানের জুটি। ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় ৬৫ রানে রশিদের গুগলিতে পরাস্ত হন হৃদয়। ৩৪ বলে ১৬ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে।
পরের ওভারে দলীয় ৭১ রানে আঘাত হানেন মোহাম্মদ নবী। ১৮তম ওভারের শেষ বলে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন সাকিব। রিভিউ নিলেও রক্ষা হয়নি। ফেরেন ২৯ বলে ২৫ রান করে। তিন বল পরেই রশিদের শিকার হন আফিফ হোসেন। রশিদের গুগলিতে স্লিপে নবীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রানের খাতা না খুলেই।
সপ্তম উইকেট জুটিতে ইনিংসের সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েন মুশফিক ও মিরাজ। দুজনে মিলে সংগ্রহ করেন ৮৭ রান। ৩৭তম ওভারে দলীয় ১৫৯ রানে মুজিবের তৃতীয় বলে রহমত শাহকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিরাজ। ৪৮ বলে ২৫ রান করে যান। ৩৯তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৫৯ রানে আবারও আঘাত হানেন মুজিব। ফেরান হাসান মাহমুদকে। ১২ বলে ৪ রান করেন হাসান।
আফগানিস্তানকে অপেক্ষায় রেখেছিলেন মুশফিকুর রহিম। ৪৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফারুকির শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুজিবের হাতে। ফেরেন ৮৫ বলে ৬৯ রান করে। তাতে পূর্ণ হয় হারের ষোলোকলা!
আফগানদের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন ফারুকি ও মুজিব। রশিদ খান নেন দুটি উইকেট। নবী নেন একটি উইকেট।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে নামবে বাংলাদেশ।








