মিরপুরের কিউরেটর গামিনী ডি সিলভা চেষ্টা করছেন ঘাসের উইকেট বানাতে। বৃষ্টির পানি পেয়ে ঘাসগুলো প্রাণ পেয়েছে। হয়ে উঠেছে সবুজাভ। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টেস্টের জন্য এমন উইকেট তৈরি নজিরবিহীন ঘটনাই। আসলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতিময় উইকেটে খেলার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে বাংলাদেশ। সহজাত ঘূর্ণি ট্র্যাক থেকে বেরিয়ে আসায় পেসারদের আগুনে বোলিং দেখার অপেক্ষা এবার।
বুধবার শুরু হবে সিরিজের একমাত্র টেস্ট। সোমবারের বৃষ্টি কন্ডিশন বদলে দিয়েছে আরও। চ্যালেঞ্জটা কঠিন হলেও তা উতরে যেতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘অনেকদিন ধরেই মিরপুরে যখন খেলা হয়, ঘূর্ণি উইকেটেই বেশিরভাগ হয়। আমাদের চ্যালেঞ্জ এটাই আমরা ঘাসের উইকেটে কীভাবে ভালো খেলি। এটাই এখন বিষয় যে, আমরা এখানে কীভাবে টিকে থাকতে পারি, বড় ইনিংস খেলতে পারি।’
‘আর এরকম দলের সঙ্গে আপনি একটা নরমাল ইভেন উইকেটে খেলবেন, এটাই স্বাভাবিক। সেদিক থেকে বলব যে, আফগানিস্তানের অধিনায়ক যেটা বলেছে (ভালো পেসার থাকার কথা), আমাদের হাতেও খুব ভালো কোয়ালিটি পেস আক্রমণ আছে। দেখা যাক।’
পেসারদের জন্য আদর্শ উইকেট করার পেছনে অতীত অভিজ্ঞতার শিক্ষার ব্যাপারটি তো আছেই। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর আফগানরা যখন প্রথম বাংলাদেশে আসে, সেবার চট্টগ্রামে স্পিনিং উইকেট বানিয়ে ফাঁদে পড়েছিল স্বাগতিক দল। বড় ব্যবধানে হেরেছিল সাকিব আল হাসানের দল। রশিদ খানের স্পিনে নাকাল হয়েছিল টিম টাইগার্স। এবার রশিদ না থাকলেও প্রতিপক্ষকে নিয়ে পরিকল্পনায় কোনো অদল-বদল করতে চান না লিটন।
‘রশিদ থাকলেও যেভাবে সিরিয়াসভাবে নিতাম, না থাকায়ও আমরা ওই ওয়েতে এগোব। টেস্ট ক্রিকেটে আমাদেরও বিরতি পড়েছে। সর্বশেষ আমরা এপ্রিলে খেলেছি। তারপর একটা সাদা বলের সংস্করণ খেলেছি আমরা। আমার মনে হয় তাদের চেয়ে আমরা একদিক দিয়ে ভালো, আমরা অনেকদিন ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলছি। আমাদের ম্যাচুরিটি লেভেলও বেশি, কারণ আমরা ক্রিকেটাররা অনেক টেস্ট ক্রিকেট খেলি এখন।’
‘তারপরও দিন শেষে যখন মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলবেন না, তখন কিন্তু এটা নেতিবাচকভাবে কাজ করবে। অবশ্যই তাদের ক্রিকেটারদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম। কারণ তারা ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি বেশি খেলেছে। এটা দিয়ে টেস্ট ক্রিকেট বিচার করাটাও কঠিন। আমাদের মাথায় একটা পরিকল্পনা আছে, সেটা যদি আমরা যথাযথভাবে করতে পারি অবশ্যই ভালো কিছু হবে।’







