রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে শেষ হাসিটা হাসতে পারল না বাংলাদেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা কুয়েতের সঙ্গে ১২০ মিনিট বুক চিতিয়ে লড়াই করেও সেমিফাইনালে থেমে গেল হাভিয়ের ক্যাবরেরার দলের যাত্রা। একের পর এক সুযোগ হাতছাড়ার মাশুল দিয়ে অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে ১-০ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।
হার না মানা মানসিকতায় মুগ্ধ করে জামাল-তারিকরা কুয়েতের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে স্কোরলাইন গোলশূন্য নিয়ে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে পোস্টের সামনে গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো একের পর এক সেভে দলের জাল অক্ষত রাখেন। তবু শেষ রক্ষা হয়নি।
শনিবার বিকেলে বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে দ্বিতীয় মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পায় লাল-সবুজের দল। বিশ্বনাথ ঘোষের থ্রো ইন থেকে বল পান রাকিব। ডানপ্রান্ত থেকে দেন পাস। কুয়েত ডিফেন্ডার বল মিস করায় বক্সের ভেতর থাকা মোরসালিন বল নিয়েই ডান পায়ে শট করেন। বল গোলরক্ষক মারজুকের ডান হাঁটুতে লেগে ফিরে আসে।
সপ্তম মিনিটে ইসা ফয়সাল গোললাইন বরাবর বল ক্লিয়ার করে বাংলাদেশকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক জিকো বল ধরার সময় তাকে অহেতুক আঘাত করেন কুয়েত অধিনায়ক খালেদ হাজিয়া। এ নিয়ে খানিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মিনিট তিনেক পর রাকিবের দূরপাল্লার শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক গ্লাভসবন্দি করেন।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে আল রাশিদির শট ফিস্ট করে জাল অক্ষত রাখেন জিকো। এরপর ইসা হেডে বল বিপদমুক্ত করেন। দুই মিনিট পর জামালের থেকে বল নিয়ে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যান মোরসালিন। তার পাসে আসা বলে বক্সে থাকা রাকিবের শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক লুফে নেন।
যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে রাকিবের শট কুয়েত গোলরক্ষকের ধরতে সমস্যা হয়নি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে বিরতিতে যাওয়ার আগে জোর লড়াই করে ক্যাবরেরার দল। দীর্ঘ ১৮ বছরের ফাইনাল খরা ঘোচানোর আশার পালে হাওয়া বাড়ায়।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় কুয়েত। ৫১ মিনিটে সালমানের হেড হৃদয় কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। ৫৪ মিনিটে রাকিবের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৬১ মিনিটে মোরসালিনের বাড়িয়ে দেয়া বল নিয়ে বক্সে জিরো ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে শট নেন রাকিব। বল পোস্টে লেগে ফিরে যাওয়ায় বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়।
ম্যাচের ৬৩ মিনিটে বক্সের কাছে কুয়েতের হাসান আলআনেজির নেয়া ফ্রি-কিক প্রতিহত করেন জিকো। খানিক পর আল রাশিদির জোরাল শটও বাংলাদেশ গোলরক্ষক চমৎকার সেভ করেন। পাল্টা আক্রমণে ৬৬ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে মোরসালিন বল নিয়ে ছুটে যান। বক্সের ভেতর পাস দিলে জামাল বুক দিয়ে বল আদায় করতে ব্যর্থ হন।
বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল চোট পেয়ে ৬৮ মিনিটে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন। তার বদলি হিসেবে নামেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। ৭০ মিনিটে আবদুল্লার শট ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখেন জিকো।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে হৃদয় মাঝমাঠ দিয়ে অনেকটা এগিয়ে পাস দেন। রাকিব ঠিকঠাক বল রিসিভ করতে পারেননি। এসময় আপত্তিকর মন্তব্য করায় ডাগ আউটে থাকা বাংলাদেশের ফিজিও ডেভিড মাগানকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ৭৩ মিনিটে জিকো এক হাতে দারুণ সেভ করেন। পাঁচ মিনিট পর এগিয়ে এসে বল লুফে নেন। আল খালদিকে তারেক ঠেকিয়ে দেন। ৭৯ মিনিটে কর্নার কিক জিকো আঙুল দিয়ে সেভ করেন।
৮৬ মিনিটে বাংলাদেশের সহকারী কোচ হাসান আল মামুন হলুদ কার্ড দেখেন। পরের মিনিটে মোরসালিনের জায়গায় মোহাম্মদ ইব্রাহিম মাঠে নামেন।
৮৮ মিনিটে ফাহিমের ক্রসে রাকিব ঠিকঠাক হেড নিতে না পারায় গোল আসেনি।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবদুল্লার শট পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে যায়। চার মিনিট পর আবদুল্লাহ বল নিয়ে এগিয়ে গেলেও জিকো শুয়ে পড়ে বল ধরেন। এর পরপরই রেফারি নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষের বাঁশি বাজিয়ে দেন।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে চোটাক্রান্ত হৃদয়ের জায়গায় মাঠে নামেন মুজিবর রহমান জনি। ৯৮ মিনিটে রাকিব দৌড়ে গিয়ে বক্সে ঢুকলেও প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের কড়া মার্কিংয়ের সময় ভারসাম্য রাখতে পারেননি।
পরের মিনিটে আবদুল্লার ক্রসে আল রাশিদির শটে অতিমানবীয় সেভ করেন জিকো। খানিকপর রাশিদির শট ঠেকিয়ে বাংলাদেশ দলে অক্সিজেন সরবরাহ জারি রাখেন তিনি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জাল আর অক্ষত রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। আবদুল্লাহ আলবলুশি ডান পায়ের মাটি কামড়ানো শটে লক্ষ্যভেদ করলে লিড পায় কুয়েত।
ম্যাচের ১০৯ মিনিটে ফাহিমের জায়গায় রবিউল হাসান নামেন। পাঁচ মিনিট পর আরেক বদলি খেলোয়াড় রহমত মিয়ার দূরপাল্লার শট ধরে ফেলেন কুয়েত গোলরক্ষক। ১১৮ মিনিটে রাকিবের শট এক পায়ে প্রতিহত করেন মারজুক। খানিক পর কর্নার কিকে হেড ঠিকঠাক নিতে পারেননি বিশ্বনাথ।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সুমন রেজার কিক প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। তার পরপরই রেফারির শেষ বাঁশিতে বাংলাদেশের আশাভঙ্গে যতি পড়ে!







