সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, এবার বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বের হওয়া ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ রাখা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পহেলা বৈশাখ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারোসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউনেস্কোকেও এই বিষয়ে জানানো হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট ১৯৮৯ সালে প্রথমবার ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে শোভাযাত্রার আয়োজন করে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এটি নতুন অর্থ পায় এবং ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করে। শোভাযাত্রাটি শুধু উৎসব নয়, বরং প্রতীকী সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০১৬ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়। তবে গতবছর বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উপলক্ষে আয়োজকরা ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম ব্যবহার করেন, যা নিয়ে দেশের বিভিন্ন অংশে মতবৈষম্য দেখা দেয়।
এক পক্ষ মনে করে, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ইতিমধ্যেই ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ, অন্যদিকে অনেকে মনে করেন নতুন নাম আয়োজনের সার্বজনীনতা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

