বিনোদন অঙ্গনের বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান ও ফ্যাশন ইভেন্টে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভট সাজসজ্জা ও ব্যতিক্রমী উপস্থিতির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মডেল-অভিনেতা নিরব হোসেন এবং ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার পিয়াল হোসেন।
তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফ্যাশনের বিকাশ নয়, বরং রুচির অবক্ষয়েরই প্রকাশ।
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে নিজেকে ‘ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির উদ্ভট সাজসজ্জা ও নৃত্যভঙ্গি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি ঘিরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তীব্র ট্রলের মুখে পড়েন। তার ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিওতে হাজারো কটূক্তি, ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য এবং বিদ্রূপাত্মক কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী ক্লাবে আয়োজিত ‘বিডি’স মোস্ট স্টাইলিশ অ্যাওয়ার্ড সিজন–২’-এর সংবাদ সম্মেলন শেষে চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নিরব হোসেন বলেন, “এগুলো রুচির বিকৃতি ছাড়া কিছুই না। বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ফ্যাশনের মাধ্যমে দারুণভাবে তুলে ধরা সম্ভব। অন্য দেশের সংস্কৃতি বা পোশাক নকল করে আমাদের কোনো লাভ নেই। সবসময় অনুকরণ করতে গেলেই এমন উদ্ভট ও রুচিহীন বিষয় সামনে আসে।”
প্রায় ২৬ বছর ধরে বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতে ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করা পিয়াল হোসেনও এ প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করেন।
তার ভাষায়, “ভাইরাল হওয়ার জন্য কয়েকজন নোংরামি শুরু করেছে। একসময় চলচ্চিত্রেও কিছু নায়িকা অশ্লীলতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে তারা হারিয়ে গেছেন। আজ মানুষ তাদের ভালোভাবে স্মরণ করে না। অথচ শাবনূর, মৌসুমী কিংবা পূর্ণিমার মতো শিল্পীদের মানুষ এখনও সম্মান করে, ভালোবাসে।”
তিনি বলেন, “ফ্যাশন অঙ্গনেও কয়েকজন ভাইরাল হওয়ার জন্য নোংরামি করছে। কিন্তু এসব বেশিদিন টিকবে না। সময়ের সঙ্গে মানুষ তাদের কর্মকাণ্ডকেই ঘৃণা করবে।”
পিয়াল হোসেনের মতে, “ভাইরাল এখন অনেকটা ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই সাময়িক জনপ্রিয়তা একসময় মিলিয়ে যাবে। তখন এসব কাজের জন্য তারাই লজ্জা পাবে।”







