একই অভিযানে এভারেস্টসহ দুইটি আট হাজার মিটার পর্বতশৃঙ্গ সামিট করা পর্বতারোহী বাবর আলী নিরাপদে ফিরেছেন এভারেস্ট বেসক্যাম্পে।
বুধবার ২২ মে ক্যাম্প-টু থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বেসক্যাম্পে পৌঁছান বাবর। সেখান থেকে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যানেল আইকে জানান, বেশ সুস্থ আছেন তিনি। আরও দুই দিন বেসক্যাম্পে থাকবেন।
বাবর জানান, গত ১৯ তারিখ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্প-ফোর থেকে এভারেস্টের চূড়ার উদ্দেশে বের হন বাবর ও তার গাইড বীর বাহাদুর তামাং। সেদিন প্রচণ্ড মানবজট থাকায় চূড়ায় পৌঁছান সকাল সাড়ে ৮টার পর। ইচ্ছে ছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান থেকে সূর্যোদয় দেখবেন, কিন্তু মানবজটের কারণে সেই আশা পূরণ না হলেও এভারেস্ট চূড়ায় প্রায় একঘণ্টা ১০ মিনিট কাটান বাবর আলী।
এতক্ষণ কী করেছেন জিজ্ঞেস করলে বাবর জানান, আশপাশটা একটু ঘুরে দেখেছেন আর পৃষ্ঠপোষক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোগো নিয়ে ছবি তুলতেও বেশ খানিকটা সময় লেগেছে।
এই সময় কোন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বাবর জানান, চূড়ায় ওঠার পথে বেলকনিতে মঙ্গোলিয়ান এক ক্লাইম্বারের লাশ দেখে কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন। তার আগেও পথে আর একজন পর্বতারোহীর লাশ চোখে পড়েছিল। এছাড়াও এভারেস্ট সামিট করে ফেরার পথে তুষার ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। প্রায় আড়াইঘণ্টার এই তুষার ঝড় সামলিয়ে সেদিন ক্যাম্প টু তে ফিরতে বিকেল সাড়ে ৪টা পার হয়ে যায়। তাই সেদিন মাঝরাতে লোৎসের উদ্দেশে বের হওয়ার কথা থাকলেও বের হন পরদিন।

এরপর ২১ মে ভোর সাড়ে ৫টার পর লোৎসে চূড়ায় পৌঁছান তিনি। সেদিন তিনিই ছিলেন প্রথম আরোহী। বাবর জানান, লোৎসে চূড়া থেকেই সবচেয়ে সুন্দরভাবে এভারেস্ট দেখেছেন তিনি। সেদিনই সেখান থেকে ক্যাম্প টু তে নেমে আসেন বাবর। তার পরদিন বুধবার নেমে আসেন ক্যাম্প ফোর এ।
বাবর জানান, এখন তিনি ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। এই মাসের শেষের দিকেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে বাবরের। পাশে থেকে তাকে সমর্থন ও উৎসাহ দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি।








