ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার ৫৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডে টেলিগ্রাফ মিডিয়া গ্রুপ (টিএমজি) কিনতে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে গত বছর ডেইলি মেইল অ্যান্ড জেনারেল ট্রাস্টের (ডিএমজিটি) প্রস্তাবিত ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের অধিগ্রহণ প্রস্তাবকে ছাড়িয়ে গেল এই চুক্তি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
টিএমজির মালিকানায় রয়েছে ডেইলি টেলিগ্রাফ, সানডে টেলিগ্রাফ, টেলিগ্রাফ ম্যাগাজিন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও অ্যাপ।
অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিয়াস ডপফনার বলেন, তিনি টেলিগ্রাফের স্বতন্ত্র চরিত্র ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে চান। তিনি বলেন, ২০ বছরেরও বেশি আগে আমরা টেলিগ্রাফ কিনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সফল হইনি। এখন সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। ব্রিটিশ মানসম্মত সাংবাদিকতার এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক হওয়া গৌরবের পাশাপাশি দায়িত্বও।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, টেলিগ্রাফ মিডিয়া গ্রুপের ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ কর্মসূচি নেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে টেলিগ্রাফের উপস্থিতিও বাড়ানো হবে।
জার্মানিভিত্তিক অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার ইউরোপের বড় একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান। তাদের মালিকানায় রয়েছে বিল্ড, ডি ভেল্ট, পলিটিকো এবং বিজনেস ইনসাইডারসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম।
এটি হবে অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের সবচেয়ে বড় অধিগ্রহণ। এর আগে ২০২১ সালে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারে তারা পলিটিকো কিনেছিল।
২০২৩ সাল থেকে টেলিগ্রাফ মিডিয়া গ্রুপ কার্যত মালিকবিহীন ছিল। আগের মালিক বার্কলে ভাইদের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
গত কয়েক বছরে একাধিক প্রতিষ্ঠান টিএমজি কিনতে চেষ্টা করলেও তা ভেস্তে যায়। মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রেডবার্ড ক্যাপিটাল দুইবার অধিগ্রহণের চেষ্টা করেছিল। তবে আবুধাবির আইএমআই গ্রুপের অর্থায়ন নিয়ে রাজনৈতিক আপত্তির কারণে তাদের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
পরবর্তীতে ডেইলি মেইলের প্রকাশক ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডে টিএমজি কেনার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতি সচিব লিসা ন্যান্ডি সংবাদমাধ্যমে মতের বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় সেই চুক্তির তদন্ত শুরু করেন।
ডেইলি মেইলের মালিক প্রতিষ্ঠান এক বিবৃতিতে অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার ও টেলিগ্রাফের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেছে। তবে তারা বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করলেও যুক্তরাজ্যের জটিল ও পুরোনো নিয়ন্ত্রক কাঠামো দেশীয় সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে।







