নাটকের মধ্যে মন ছুঁয়ে যাওয়া কিছু কিছু গান থাকে। ভালোবাসা দিবস কিংবা ঈদ উৎসব; যে কোনো উৎসবে নাটকের মধ্যে এসব গানগুলো দর্শক ভীষণভাবে পছন্দ করেন। গানের পাশাপাশি নাটকের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও দর্শককে মুগ্ধ করে।নাটকের শিল্পীদের নিয়ে মাতামাতি হলেও আড়ালে থেকে যান গানের মানুষরা।
আড়ালে থাকা তেমনই এক সংগীত পরিচালক ও গায়ক আভরাল সাহির। তিনি প্রথম আলোচিত হন নিশো-মেহজাবীনের শিল্পী নাটকে ‘বুক চিন চিন’ গানটির নতুন সংগীতায়োজন করেন। গত ভ্যালেন্টাইনে মাহমুদ মাহিনের ‘হৃদ মাজারে’ নাটকে পড়শির সঙ্গে যৌথভাবে করা আভরালের গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়।
সর্বশেষ ঈদে ওয়েডিং ক্লাশ, উড়ো প্রেম, লাভ এন্ড ওয়ার, নসীব, হাঙ্গর, বিয়াইন আই লাইভ ইউ, আরেকবার ভালোবাসি এসব নাটকে অপূর্ব, তাহসান, তৌসিফ, ফারহান, জোভানদের নাটকগুলোতে ভিন্নমাত্রা পেয়েছে আভরালের সংগীত ও কণ্ঠের গান।
সময়ের ব্যস্ততম এ সংগীত পরিচালক ও শিল্পী জানান, প্রতি উৎসবে তিনি দর্শক শ্রোতাদের কোনো না কোনো হিট গান দিচ্ছেন।
তার করা কনার সঙ্গে ভুলনা আমায় এবং পড়শীর সঙ্গে একটা গল্প শোন গান দুটিও গেল ঈদে শ্রোতারা পছন্দ করেছেন। বিশেষ করে হাঙ্গর নাটকে কোনালের কণ্ঠে আভরালের সুর সংগীতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ‘প্রেমের বান’ গানটি থেকে ব্যাপক সাড়া পান আভরাল।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দুই মিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়েছে। গত ঈদের নাটকের সবচেয়ে আলোচিত গান এটি। কোনাল আপুর কথা মাথায় রেখে গানটি সাজাই। উনি দুর্দান্ত গেয়েছেন। মানুষ অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন এ গান থেকে।
আভরাল সাহির মূলত সংগীত পরিচালক। বললেন, গানকে ভালোবাসি বলেই ভালোবাসার সুবাদে গান করি। তবে সবার আগে আমি একজন মিউজিক কম্পোজার। এটা আমার নেশা। মিউজিক লক্ষ, কোটি টাকা ইনকাম করবো এই চিন্তা কখনও করি না। এতো প্রতিযোগিতার মধ্যেও নির্মাতা, প্রযোজকরাও আমার উপর বিশ্বাস রাখেন যে আভরাল কাজ করলে সেটা খারাপ হবে না।
সংগীত পরিচালক হিসেবে দেশের সংগীতাঙ্গনে অনেককেই পছন্দ করেন আভরাল। তবে বিশেষ করে উল্লেখ করেন হাবিব ওয়াহিদ ও ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের নাম। আভরাল জানালেন, এই দুজনকে আমি সবার আগে রাখবো। বাকিদের কাজও ভালো লাগে।
‘বাংলাদেশের সংগীতে এখন অনেক স্টার মিউজিসিয়ান আছেন। তারা তাদের নাম ও কর্মগুণে প্রতিষ্ঠিত। তাই আমি তাদের মতো হতে চাই না। আমি অনুভব করি একজন আভরাল নাই। তাই আমি নিজস্বতা দিয়ে আমার মতো হতে চাই। তমুকে ২০টি হিট গান দিয়েছে, আমাকে তার চেয়ে বেশি দিতে হবে এটা কখনই ভাবি না। ভালো কাজ করতে থাকি, কাজগুলো যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়। গান নিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য আমার কাজগুলো মানুষ মনে রাখুক, মানুষ আমাকে ভালোবাসুক।’-বলছিলেন আভরাল।








