অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) রাজ্য সরকার বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনার পর ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অংশ হিসেবে ‘ইন্তিফাদা’ স্লোগানটি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। রাজ্যটির প্রধান ক্রিস মিনস এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এনএসডব্লিউ সরকার একই সঙ্গে বন্ডিতে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনাটি তদন্তে একটি রয়েল কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। প্রায় তিন দশকের মধ্যে এটি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত রোববার অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রতীকী সমুদ্র সৈকত বন্ডিতে একটি ইহুদি উৎসব চলাকালে ‘ইসলামিক স্টেটের আদর্শে অনুপ্রাণিত’ দুই বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
হামলার পর থেকে রাজ্য ও ফেডারেল উভয় সরকারই চরমপন্থা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। ক্রিস মিনস জানান, আগামী সপ্তাহে রাজ্য সংসদে কঠোর ঘৃণাত্মক বক্তব্যবিরোধী আইন এবং বন্দুক নিষেধাজ্ঞা পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রতিবাদ আইন আরও কঠোর করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

রাজ্যপ্রধান মিনস স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইন্তিফাদা’ স্লোগানটিকে ঘৃণাত্মক বক্তব্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে লন্ডনে এক বিক্ষোভে ইন্তিফাদা সংশ্লিষ্ট স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দুই ফিলিস্তিনপন্থী সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইন্তিফাদা শব্দটি ১৯৮৭ সালে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি বিদ্রোহের সময় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। শব্দটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেউ একে ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান হিসেবে দেখেন, আবার কেউ একে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
এই সপ্তাহের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মিনস এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের বিরোধীদলীয় নেতা কেলি স্লোয়েন বন্ডি হামলার সর্বকনিষ্ঠ শিকার, ১০ বছর বয়সী মাতিল্ডার শেষকৃত্যে অংশ নেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী একটি কবিতা পাঠ করে শিশুটির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে ফেডারেল প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নতুন বন্দুক বাইব্যাক কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, যার আওতায় অবৈধ ও নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ ও ধ্বংস করা হবে। সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ অস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
শনিবার বন্ডি সমুদ্র সৈকতে প্রায় এক হাজার লাইফগার্ড সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই ধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলি অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য সৈকতেও পালন করা হয়। হামলার সময় সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া সার্ফ লাইফসেভারদের জাতীয় নায়ক হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।
রোববার অস্ট্রেলিয়াজুড়ে অন্ধকারের উপর আলো প্রতিপাদ্যে জাতীয় প্রতিফলন দিবস পালিত হবে। সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে, পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং নাগরিকদের জানালায় মোমবাতি জ্বালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, এই এক মিনিট নীরবতা আমাদের জীবনের অংশ হওয়া উচিত এমন ১৫ জন অস্ট্রেলিয়ানের স্মরণে উৎসর্গ করা হবে। ঘৃণা ও সহিংসতা কখনোই আমাদের অস্ট্রেলিয়ান পরিচয় নির্ধারণ করতে পারবে না।
১৯৯৬ সালে পোর্ট আর্থারে ৩৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর বন্ডির হামলাকেই অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে যে ঘটনার পর দেশটিতে কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন চালু হয়েছিল।







